কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকার মো. হানিফ মিয়া (৩৪) নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দিবাগত রাতে ফরিদপুর আনন্দ বাজার এলাকায় এ হত্যা কাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ ৫ জনকে গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার বিকালে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছে। তবে মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন এখনও পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত হানিফ মিয়া আনন্দ বাজার এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় সমিল শ্রমিক ও কাঠ ব্যবসায়ী ছিলেন। বুধবার (১৩ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশী লস্কর মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন হানিফকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হানিফ তার স্ত্রী আয়েশার মোবাইল ফোনে কল করে তার প্রাণ বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে বলেন, “আমাকে বাঁচাও, জাকির হোসেনরা আমাকে মেরে ফেলবে।”
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও অভিযুক্তদের বাড়ির গেট বন্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে স্থানীয় লোকজন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে লস্কর মিয়ার বাড়ির অদূরে ব্রহ্মপুত্র নদসংলগ্ন একটি পতিত ধানক্ষেত থেকে হানিফের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকালে নিহতের স্ত্রী আয়েশা বেগম বাদী হয়ে কুলিয়ারচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলায় ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা রুজু হওয়ার আগেই হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে লস্কর মিয়া (৪৫), হেলেনা বেগম (৪০), জীবন মিয়া (২৫), নাদিয়া আক্তার (২০) ও রুকিয়া বেগম (৫০) কে আটক করেছে পুলিশ। পরে মামলা রুজু হওয়ার পর তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ৫ আসামিকে কিশোরগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। পুলিশ কর্তৃক আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধ এবং মাদক ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পলাতক জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে চুরি, মাদক ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৬টি মামলা রয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে ক্ষুব্ধ জনতা লস্কর মিয়ার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় বাড়ির ভেতরে ও বাইরে থাকা একটি মোটরসাইকেলও পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা।
কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী আরিফ উদ্দিন জানান, “মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।