স্বাধীনতার মহান ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী এবং ১৯৮১ সালের ২১ মে আজকের এই দিনে তাঁর পিরোজপুর আগমন দিবস উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা, দোয়া মাহফিল, বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে পিরোজপুর জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জেলা পরিষদের উদ্যোগে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন পিরোজপুর সদর উপজেলার চলিশা এলাকায় বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ নুরুল আলম।
সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ রব্বানী ফিরোজ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর অবদান এবং দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও অবদানের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তারা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তারা আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশ এবং দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
এদিকে চলিশা এলাকায় আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে ৫ নম্বর টোনা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাঈনুল হাসান দুলালের সভাপতিত্বে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, কৃষি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, ১৯৮১ সালের ২১ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চলিশা এলাকায় গণ-খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে পিরোজপুরে এসেছিলেন। তিনি নিজ হাতে মাটি কেটে খাল খনন কার্যক্রমের সূচনা করেছিলেন, যা আজও বহমান রয়েছে। তাঁর উন্নয়নমুখী আদর্শকে ধারণ করেই পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। শেষে অতিথিরা চলিশা এলাকায় চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
এছাড়া আলোচনা সভা শেষে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপস্থিত বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। শেষে অতিথিরা চলিশা এলাকায় চারা রোপণ করে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।