বর্ণি ইউনিয়ন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ, যুবদল নেতা পরিচয়দানকারীর বিরুদ্ধেও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নে পুলিশের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বর্ণি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. অলিউর রহমান খাঁ ও তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত শেহাব মোল্লার বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, থানায় আটক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া এবং বিভিন্ন স্থানীয় বিরোধে হস্তক্ষেপের অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধ কিংবা স্থানীয় কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। এমনকি থানায় আটক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেও মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা দুখু শেখের একটি পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশের নাম ব্যবহার করে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া কারেন্ট জাল ধ্বংসের সময় অর্থ আদায়, বালু উত্তোলনকারীদের কাছে চাঁদা দাবি এবং পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
এ ছাড়া সাবেক চেয়ারম্যান মন্টু খাঁকেও পুলিশের ভয় দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা দিনু শেখ। তার দাবি, তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বর্ণি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির বলেন, “দিনু শেখকে আমি নিজ জিম্মায় ছাড়িয়ে এনেছি। তবে এলাকাবাসীর মুখে শুনেছি, তাকে ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে অলিউর রহমান খাঁ প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।”
পুলিশের নাম ব্যবহার করে কেউ সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা অর্থ আদায় করলে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আইয়ুব আলী।
তিনি বলেন, “আমাদের নাম ব্যবহার করে যদি কোনো ব্যক্তি সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে, তদন্ত করে এর সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, শেহাব মোল্লা নিজেকে যুবদলের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন সামাজিক ও স্থানীয় কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সরকারি ধর্মীয় উন্নয়ন প্রকল্পের একটি কাজকে কেন্দ্র করেও স্থানীয়দের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।