• মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০৪:২২ অপরাহ্ন

তিন মেয়েকে পাঁচবার বিয়ে, আসামী হয়ে কারাগারে চেয়ারম্যানের ছেলে মিঠু

মাইদুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিনিধি / ১৯ Time View
Update : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় তিন মেয়েকে পাঁচবার বিয়ে ও একাধিক মামলার আসামী মোশারফ হোসেন মিঠুকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে থানা পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের গোনাইরকুটি গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম আলাউদ্দিন মন্ডলের ছেলে মিঠু ২০০৭ সালের ২৬ মার্চ ছনবান্ধা গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহনাজ পারভীন লাভলীকে প্রথম বিয়ে করেন। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর সংসার জীবনের পর তিনি দেওয়ানের খামার গ্রামের তালাকপ্রাপ্তা নারী মনিকা খাতুন (৩০)-এর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।

পরবর্তীতে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বিষয়টি গোপন রেখে প্রায় দেড় বছর সংসার করার পর ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর মনিকাকে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের মাত্র ১২ দিনের মাথায় মনিকাকেও তালাক দেন। পরে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে পুনরায় দাম্পত্য জীবন শুরু করেন।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মনিকা ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি যৌতুক নিরোধ আইনে মিঠুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে সমঝোতার মাধ্যমে চার লাখ টাকা দিয়ে মামলাটি নিষ্পত্তি করা হয়।

এরই মধ্যে মিঠু আবার সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার গ্রামের ‘সোমা’ নামের এক গৃহবধূর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ওই নারীর বিরুদ্ধে স্বামীকে গুরুতর আহত করার অভিযোগে পূর্বে মামলা ও গ্রেফতারের ঘটনাও স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মিঠু প্রথম স্ত্রীর বেতনের টাকা, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় প্রথম স্ত্রী শাহনাজ পারভীন লাভলী ভূরুঙ্গামারী থানা-তে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরবর্তীতে প্রথম স্ত্রীকে নির্যাতন ও যৌতুক দাবির অভিযোগে ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর কুড়িগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হলে মিঠু পলাতক থাকেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সোনাহাট স্থলবন্দর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ওয়ারেন্ট ছিল গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা