নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার বৃহত্তর ও ঐতিহ্যবাহী আবাদপুকুর গরু-ছাগলের হাটে প্রকাশ্যে ১ লাখ টাকা চুরির ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। কোটি কোটি টাকার লেনদেন হওয়া এই ব্যস্ততম হাটে নিরাপত্তাহীনতা ও অব্যবস্থাপনার সুযোগে সংঘবদ্ধ চোরচক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৩ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুরবানির গরু কিনতে এসে চুরির শিকার হন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ঘোড়াঘাট এলাকার নুরুজ্জামান (৪২)।
ভুক্তভোগী জানান, হাটের অতিরিক্ত ভিড়, বিশৃঙ্খলা ও নজরদারির ব্যবস্থা না থাকার সুযোগে তার প্যান্টের পকেটে থাকা নগদ ১ লাখ টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেয় চোরচক্র। মুহূর্তেই নিঃস্ব হয়ে পড়েন তিনি। ঘটনার পর পুরো হাটজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন ওঠে।
নুরুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাটে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হলেও নিরাপত্তার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। চোরচক্র যেন প্রকাশ্যেই তৎপর ছিল। প্রশাসন ও হাট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি থাকলে হয়তো আমার কষ্টের উপার্জনের টাকা হারাতে হতো না।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের অভিযোগ, ঈদ সামনে রেখে পশুর হাটে বিপুল নগদ লেনদেন হলেও নিরাপত্তা নিশ্চিতে দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই। ফলে সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে হাটে আসছেন। তাদের দাবি, দ্রুত চোরচক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং হাটে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
ঘটনার পর থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে আটক বা শনাক্ত করা করা যায়নি।
রাণীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন মুঠোফোনে বলেন, যদিও আমি হাটের সাথে জড়িত নেই, তবে তদারকি করি। ছেলেদের বলা আছে হাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা না ঘটে সেই বিষয়ে সজাগ থাকতে।
রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া মন্ডল বলেন, লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রাকিবুল হাসান বলেন, হাটের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।