• সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ০১:০৫ পূর্বাহ্ন
Headline
দুর্গাপুরে নিরাপদে বসবাসের দাবিতে হিন্দু পরিবারের সংবাদ সম্মেলন গোপালগঞ্জ ছাড়া দেশের সব জেলায় জুলাই পদযাত্রা করবে এনসিপি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে মৌলভীবাজারে গণমিছিল কুমিল্লায় উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে: মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন শায়েস্তাগঞ্জে সাবেক নারী ইউপি সদস্য হত্যা মামলায় ফারুক গ্রেপ্তার মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গলে মা’দক প্রতিরোধে সচেতনতামুলক সভা সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়ালাইসিস ইউনিট স্থাপন হবে-স্বাস্থ্যমন্ত্রী পাঁচবিবিতে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে দুই পরীক্ষার্থী বহিস্কার গোপালগঞ্জে সাড়ে ৩শ শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস বিতরণ আমাকে বৃক্ষ হিসেবে রোপন করুন,আমি আপনাদের ফল দিবো, মেয়র প্রার্থী

পাঁচবিবিতে জেন্ডার ইকুইলিটি ফোরামের ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত

মো.বাবুল হোসেন,জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশকাল : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে লিঙ্গ সমতা, নারীর ক্ষমতায়ন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারে উপজেলা জেন্ডার ইকুইলিটি ফোরামের ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৮ জুন রবিবার বিকেল ৩টায় সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে, জিএফএ কনসালটিং গ্রুপ কর্তৃক পরিচালিত এবং মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)-এর এমএসএফ এমপাওয়ারহার (MSF EmpowerHer) প্রকল্পের আওতায় বন্ধনের আয়োজনে
স্থানীয় এনজিও সংস্থা বন্ধন এর কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জেন্ডার ইকুইলিটি ফোরামের সভাপতি মোছা. খালেদা আক্তার বিজলী।
প্রকল্পের উপজেলা ফ্যাসিলিটেটর বিপ্লব আলী এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বন্ধনের সভাপতি তারিকুল ইসলাম চৌধুরী এবং নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুল হাফিজ সরদার। তাঁরা বলেন, নারী-পুরুষের সমঅধিকার, মর্যাদা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস মনিটরিং অফিসার ড. সাজ্জাদুল বারী। তিনি বলেন, জেন্ডার সমতা ও মানবাধিকার একে অপরের পরিপূরক। নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে হলে মানবাধিকারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং আইনের শাসনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি বাল্যবিবাহের ভয়াবহ সামাজিক, স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক কুফল তুলে ধরে বলেন, বাল্যবিবাহ একটি মানবাধিকার লঙ্ঘন, যা মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ সমস্যা প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
আলোচনায় তিনি বর্তমান সময়ে সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্বও তুলে ধরেন। বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশু-কিশোর ও নারীদের অনলাইন নিরাপত্তা রক্ষায় পরিবার ও সমাজকে আরও সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে ১৮ বছরের নিচের শিশু-কিশোরদের মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের নিয়মিত তদারকি, বয়সোপযোগী নির্দেশনা এবং নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, নারীর প্রতি বৈষম্য, সহিংসতা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে আরও সোচ্চার হতে হবে। নারীর শিক্ষা, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, নেতৃত্বের বিকাশ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ছাড়া একটি ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন সম্ভব নয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পাঁচবিবি উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার বাবু সুমন কুমার কুণ্ডু বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জেন্ডার সংবেদনশীল পরিবেশ সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবাধিকার, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সমতার মূল্যবোধ গড়ে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রধান অতিথি পাঁচবিবি উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং টেকসই উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। তিনি সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, স্থানীয় পর্যায়ে জেন্ডার সংবেদনশীল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং মানবাধিকার রক্ষায় সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা উপজেলার মানবাধিকার পরিস্থিতি, নারী ও শিশুর অধিকার, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, সাইবার নিরাপত্তা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে মতামত প্রদান করেন। তাঁরা ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে জেন্ডার ইকুইলিটি ফোরামের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ এবং নিয়মিত সমন্বয় সভা, প্রচারণা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, নারী নেত্রী, ইউনিয়ন জেন্ডার ইকুইলিটি ফোরামের সদস্যবৃন্দ, উপজেলা জেন্ডার ইকুইলিটি ফোরামের সভাপতি, সহ-সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক, বিভিন্ন এনজিওর নির্বাহী পরিচালক, সমন্বয়কারী, মানবাধিকার কর্মী, উন্নয়নকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।

সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে মোছা. খালেদা আক্তার বিজলী বলেন, নারীর অধিকার, জেন্ডার সমতা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা হ্রাস, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মানবাধিকার রক্ষা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category