পিরোজপুরে জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে সরকারি শিশু পরিবারে বেড়ে ওঠা এক এতিম কন্যার বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। জেলার ইতিহাসে সরকারি শিশু পরিবারের কোনো এতিম কন্যার বিয়ে জেলা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন হওয়ার এটিই প্রথম ঘটনা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (১২ জুলাই) রাতে সরকারি শিশু পরিবার প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে কনের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। তিনি কনে সুহানি আক্তারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরের হাতে তুলে দেন এবং নবদম্পতির সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধ দাম্পত্য জীবনের জন্য শুভকামনা জানান।
জানা যায়, পিতামাতাহীন সুহানি আক্তার ২০১৫ সালে সরকারি শিশু পরিবারে আশ্রয় পান। সেখানেই বেড়ে ওঠেন তিনি। ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর পিরোজপুর সদর উপজেলার জুসখোলা গ্রামের রাকিব শেখের সঙ্গে এক লাখ এক টাকা দেনমোহরে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তর পিরোজপুরের উপপরিচালক মো. ইকবাল করিম, সরকারি শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক শাবানা খানম, পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব এস এম সাইদুল ইসলাম কিসমতসহ জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
বিয়েকে ঘিরে সরকারি শিশু পরিবারে সৃষ্টি হয় এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ। সেখানে বসবাসরত এতিম ও দুস্থ শিশুরা তাদের সহপাঠীর নতুন জীবনের সূচনাকে ঘিরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। হাসি, শুভেচ্ছা ও আবেগে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো শিশু পরিবার প্রাঙ্গণ।
এ সময় জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, “এই মেয়েটি শুধু সরকারি শিশু পরিবারের সন্তান নয়, সে আমাদেরও সন্তান। আজ আমরা তার অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেছি এবং তাকে রাকিবের হাতে তুলে দিয়েছি। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তারা যেন সুখী ও সুন্দর সংসার গড়ে তুলতে পারে। এই নতুন পরিবারের পাশে আমরা সবসময় থাকব। যেকোনো প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের দরজা তাদের জন্য খোলা থাকবে। শুধু সুহানিই নয়, সরকারি শিশু পরিবারের প্রতিটি সন্তানের পাশে জেলা প্রশাসন সবসময় থাকবে।”
উপস্থিত অতিথিরা বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অভিভাবকহীন শিশুদের পাশে দাঁড়ানো শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি মানবিকতারও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়েছে।
এ উদ্যোগকে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সরকারি শিশু পরিবারে বেড়ে ওঠা এতিম ও অসহায় সন্তানদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।