• শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৫:০৪ অপরাহ্ন
Headline
মাদকমুক্ত সমাজে খেলাধুলার বিকল্প নেই: বিদ্যুৎ মন্ত্রী কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের অভিযানে ই’য়াবা সহ গ্রে’প্তার ১ মাধবদী থানা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের বৃত্তি প্রদান ঠাকুগাঁওয়ে খোলা মাঠে পড়ে ছিল এসএসসির ৫০ খাতা মদনে রাতের আঁধারে সরকারি চাল পাচারের চেষ্টা, ট্রাকসহ আটক ২ প্রবাস জীবনের উপার্জন হাতিয়ে স্ত্রী বসলেন অন্যত্র বিয়ের অভিযোগ ঢাবিতে তারেক রহমানের ভর্তি: প্রত্যক্ষদর্শী হাতিয়ার ওয়ালী উল্লাহর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের উদ্বোধন হোসেনডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষা উপকরণ বিতরণী উদ্বোধন শ্রীপুরে অটোরিকশা চালককে গলা কে.টে হ.ত্যা

প্রবাস জীবনের উপার্জন হাতিয়ে স্ত্রী বসলেন অন্যত্র বিয়ের অভিযোগ

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ,নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশকাল : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬

দীর্ঘ ১৯ বছরের প্রবাস জীবনের কষ্টে উপার্জিত নগদ টাকা, স্বর্নলংকার ও সহায় সম্পদসহ প্রায় এক কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ করে ১৪ বছরের সংসার ছেড়ে স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে করায় স্থানীয় চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সালিশানদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেও কোন বিচার না পাওয়ায় থামছেনা দুবাই প্রবাসী আবু কালামের কান্না।একদিকে স্ত্রী হারানোর বেদনা, অন্য দিকে টাকা পয়সাসহ সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার শোকে তাকে তিল তিল করে কষ্ট দিচ্ছে।

প্রবাসী মো. আবু কালাম (৪৪) কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার ভাটি জগৎচর গ্রামের মৃত চান্দু মিয়া ও মৃত মোছা. জামেনা বেগম দম্পত্তির ছেলে।

আবু কালাম গত ১৩ মে বুধবার দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিকট কান্না করতে করতে বলেন, ২০০৭ সালে আর্থিক স্বচ্ছলতার আশায় দুবাইয়ে পাড়ি জমান তিনি। প্রবাসে যাওয়ার আগে পার্শ্ববর্তী জাফরাবাদ গ্রামের মো. মেরাজ আলী শাহ্ এর কন্যা মোছা. তানজিনা আক্তারের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে দেশে ফিরে পারিবারিক ভাবে ২০১৩ সালের ৪ অক্টোবর রেজিস্ট্রি কাবিন মূলে বিয়ে করেন তারা।

প্রবাসী আবু কালামের দাবি, বিয়ের পর প্রায় ১০ বছর তাদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক ছিল। ১০ বছর সংসার জীবনে তাদের কোনো সন্তান হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে উপার্জিত অর্থ স্ত্রী তানজিনা আক্তারের কাছে বিশ্বাসের ভিত্তিতে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় জাফরাবাদ মোড়ে একটি জায়গা কেনার জন্য তিনি প্রায় ২৬ লাখ টাকা ও রেজিষ্ট্রিসহ আনুষাঙ্গিক দরকারে আরো ৪ লাখ টাকা পাঠান স্ত্রী তানজিনা আক্তারের কাছে। জায়গাটি তার নামে রেজিস্ট্রি হওয়ার কথা থাকলেও পরে সেটি প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তানজিনা আক্তার নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া ওই জায়গায় মাটি ভরাট ও দোকান নির্মাণের জন্য আরও প্রায় ৩০ লাখ টাকা কয়েক দফায় পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি তার। অপর দিকে আরো বলেন, প্রবাস জীবনের উপার্জিত অর্থ দিয়ে স্ত্রীর জন্য প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার কিনে দেয় তিনি।

এছাড়া পারিবারিক প্রয়োজনের কথা বলে তার নিকট থেকে স্ত্রীর বাবা মো. মেরাজ আলী শাহ্ ও বড় ভাই সুজন ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা নিয়েছেন বলেও জানান আবু কালাম।

প্রবাসী আবু কালামের অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে তার হোয়াটসঅ্যাপে এফিডেভিডের মাধ্যমে ডিভোর্সের একসেট কাগজ পাঠান স্ত্রী তানজিনা আক্তার। যদিও এফিডেভিটটি এরও প্রায় এক বছর আগে করা হয়েছিলো। এতদিন তা গোপন রেখে সাংসারিক প্রয়োজনে তার নিকট থেকে খরচ বাবদ নিয়মিত টাকা নিয়ে গেছেন তানজিনা। এফিডেভিটের কাগজ পেয়ে ছুটিতে দুবাই থেকে বাড়ি আসার পর তিনি জানতে পারেন, দীর্ঘ ১৯ বছরের প্রবাস জীবনের কষ্টে উপার্জিত নগদ টাকা, স্বর্নলংকার ও সহায় সম্পদসহ তার প্রায় এক কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ করে ১৪ বছরের সংসার ছেড়ে স্ত্রী তানজিনা আক্তার অন্যত্র বিয়ে করেছে। বর্তমানে তানজিনা আক্তার অন্তঃসত্ত্বা বলে জানতে পারেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ করে এবং লোকজন ধরে বহু চেষ্টা করেও এর কোন বিচার পাচ্ছেননা বলে দাবী তার।

সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব এতিম আবু কালাম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম সহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের নিকট এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করে তার সহায় সম্পত্তি ও টাকাপয়সা উদ্ধার করে দেওয়ার জন্য আবেদন জানান এবং প্রবাসী ভাইদের নিকট সহযোগিতার হাত বাড়ান।

অন্যদিকে, গত ১৩ মে বুধবার দুপুরের দিকে মোছা. তানজিনা আক্তার (৩৩) এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এ প্রতিনিধিকে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর সত্য নয়। এছাড়া তিনি আরো বলেন, আমার সাথে ওর কোন মনমালিন্য নাই। ওর শারীরিক সমস্যার কারনে ১৪ বছর সংসার জীবনে আমাদের কোন বাচ্ছাকাচ্ছা হয়নি। এ বিষয়ে ওর ডাক্তারি পরীক্ষার কাগজপত্র আছে। ওকে বারবার বলার পরও ও বাহির (বিদেশ) থেকে আসেনাই। তো সারাবছর আমি কি বাবার বাড়িতে পরে থাকমো ? এই চিন্তা ভাবনা করে আমি তারে ডিভোর্স দিয়েছি। আমার বড় বড় রোগ আছে, আমার লিভারে ফার্টিলাইজারে সমস্যা। আমার লিভারে চর্বি ও পানি জমা। আমার বাবা চিকিৎসা করায়। সারাবছর কি আমার বাবা চিকিৎসা করাবে ? আমার বাচ্চাকাচ্চা হয়না, এছাড়া ও আমার খোঁজ খবর নেয়না, এ দুটো কারনেই ওকে আমি ডিভোর্স দিয়েছি। এছাড়া তানজিনা আক্তার আরো বলেন, ওর টাকা দিয়ে তিনটি দলিলের মাধ্যমে ওর নামে জায়গা কিনে দিয়েছি। এছাড়া আমার জমানো টাকা, স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে ও আমার বাবার দেওয়া টাকা দিয়ে জাফরাবাদ মোড়ে আমার নামে একটি জায়গা কিনেছি। এছাড়া তিনি আরো বলেন, ওকে তালাক দিয়ে প্রায় এক বছর আগে ঢাকা গোলাপবাগ এলাকার সুব্রত এর ছেলে সুমন (৩৫) কে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ে করে সংসার করছি। আমি বর্তমানে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ও যদি বেশি বারাবাড়ি করে তাহলে ওর নামে আমি মামলা করতে বাধ্য হবো।

অপর দিকে ২০২৪ সালের ২৭ জুন তারিখ ক্রমিক নং ১৬৫৮ মূলে নোটারী পাবলিক অব বাংলাদেশ, কিশোরগঞ্জ এর মাধ্যমে স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে তালাক সংক্রান্ত এভিডেভিডে মোছা. তানজিনা আক্তার উল্লেখ করেছেন, মো. আবু কালামকে বিবাহ করার পর আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঘর সংসার করাঅবস্থায় আমাদের মধ্যে মনের মিল ও বনি বনাত হয় না। প্রায় সময়েই ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকে। অনেক চেষ্টা করিয়াও আমাদের মধ্যে মনের মিল ঘটাইতে পারি নাই। এই অবস্থায় আমি আমার মান ইজ্জত বজায় রাখার মানসে ভবিষ্যতে সুখ শান্তির নিমিত্তে আমি আমার স্বামী আবু কালাম এর সহিত স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাকে তালাক দেই। স্বামী আবু কালামকে নিয়ে তানজিনা আক্তারের দুরকম বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, সরকারি আইন অনুযায়ী একজন স্ত্রী শুধুমাত্র তখনই স্বামীকে তালাক দিতে পারে যখন কাবিননামার (নিকাহনামা) ১৮ নম্বর কলামে স্বামীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পণ করা থাকে। এফিডেভিট কেবল তালাকের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে কাজ করে, তবে আইন অনুযায়ী নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে বা তালাক নিবন্ধন করা নিষিদ্ধ। কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে স্ত্রী তালাকের অধিকার পেলে, তিনি স্বামীর মতোই তালাক দিতে পারেন।
অন্যতায় নয়। তালাকের নোটিশ স্বামী ও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় চেয়ারম্যান বরাবর রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠাতে হবে। নোটিশ প্রাপ্তির ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হয়। শুধু এফিডেভিট করেই কাজ শেষ নয়, আইন অনুযায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রি অফিসে তালাক নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক।

যেহেতু আইন অনুযায়ী নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে বা তালাক নিবন্ধন করা নিষিদ্ধ সে হিসেবে তাদের বৈবাহিক কাবিন নামার ১৮ নম্বর কলামের তথ্য না মেনে নিয়ম বহির্ভূত এভিডেভিডের মাধ্যমে তানজিনা আক্তারের দেওয়া তালাকের নোটিশ স্বামী আবু কালাম ও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় চেয়ারম্যান বরাবর রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পায়নি সে ক্ষেত্রে এ তালাক বা পরবর্তী দ্বিতীয় বিয়ে কতটুকু বৈধ হয়েছে এটাই জানার বিষয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category