অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে আটক দুই পুরুষ ও এক নারী বাংলাদেশি বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ভোগ শেষে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরেছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের সমন্বয়ে মেইন পিলার-১০০৯-এর কাছে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের সোনাহাট বিওপির বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বিজিবি সদস্যরা তাদের ভূরুঙ্গামারী থানায় সোপর্দ করেন।
ফেরত আসা তিনজন হলেন—কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানার সোভারকুটি গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মোঃ আব্দুল জলিল (২৯), একই গ্রামের মোঃ হাফেজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ মোজাফফর হোসেন (২২) এবং ঢাকার যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগ এলাকার মৃত নুর আহম্মেদের মেয়ে মোছাঃ শারমীন বেগম (২৫)।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল জলিল ও মোজাফফর হোসেন ৩৩ মাস এবং শারমীন বেগম ২৮ মাস ভারতীয় কারাগারে সাজা ভোগ করেছেন। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর ভারতের আসাম পুলিশ তাদের আটক করে। সাজা শেষে মুক্তি পাওয়ার পর নিয়মিত প্রক্রিয়ায় বিএসএফ তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।
পরে ভূরুঙ্গামারী থানার জিডি নং-৮৪৬, তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মূলে তিনজনকে পুলিশের জিম্মায় নেওয়া হয়। পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই শেষে তাদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়।
পরে আব্দুল জলিলকে তার চাচা মোহাম্মদ আলী, মোজাফফর হোসেনকে বড় ভাই মোঃ রুহুল আমিন এবং শারমীন বেগমকে তার দেবর ইমন আহমেদের জিম্মায় দেওয়া হয়।
ফেরত আসা মোজাফফর হোসেন জানান, তিনি ও আব্দুল জলিল এলাকায় নদীতে মাছ ধরার সময় অসাবধানতাবশত ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশ করেন। এ সময় কুয়াশার কারণে সীমান্তের অবস্থান বুঝতে না পারায় ভারতীয় বিএসএফ তাদের আটক করে।
মোজাফফর বলেন, “বিএসএফ আটকের পর আমাদের মারধর করেনি। ভারতে ৩৩ মাস কারাগারে থাকলেও কোনো মারধর করা হয়নি।” দীর্ঘদিন পর দেশে ফেরার আনন্দে তিনি বাড়ির পথে থাকায় এ বিষয়ে আর বিস্তারিত জানা যায়নি।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, “সোনাহাট বিওপির বিজিবি সদস্যরা তাদের থানায় দিয়ে যায়। পরে তিনজনের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই শেষে পরিবারের সদস্যরা এসে তাদের নিয়ে গেছেন।”