কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অভিনব কৌশলে দীর্ঘদিন ধরে চলা মাদক ব্যবসার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ইয়াবাসহ এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের রেললাইন বস্তি এলাকায় একটি বন্ধ মুদি দোকানকে কেন্দ্র করে গোপনে ইয়াবা বিক্রি করা হতো। ক্রেতারা নির্দিষ্ট সাংকেতিক পদ্ধতিতে দোকানের ঝাঁপে টোকা দিলে দোকানের জানালার ছোট ফুটো দিয়ে ইয়াবা সরবরাহ করা হতো। বাইরে থেকে দেখে বোঝার কোনো উপায় ছিল না যে, বন্ধ দোকানের ভেতরে চলছিল মাদক বেচাকেনা।
ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুনতাসির মামুন মুনের সার্বিক নির্দেশনায় পুলিশ গোপন সংকেতভিত্তিক এই মাদক বিক্রির কৌশল শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করে।
গত ৯ মে ২০২৬ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ১১টা ৫ মিনিটে ভূরুঙ্গামারী থানার এসআই মোঃ সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাইকেরছড়া (রেললাইন) এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানে কুখ্যাত মাদক কারবারি মোঃ মকবুল হোসেন মন্ডল ওরফে মন্ডল শেখ (৪৯) এবং তার স্ত্রী মোছাঃ হাসিনা বেগম (৪০)-কে তাদের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। তারা পাইকেরছড়া (রেললাইন) এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
এ সময় মকবুল হোসেন মন্ডলের হেফাজত থেকে ১১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মাদক বিক্রির নগদ ৮ হাজার ৮৬০ টাকাও জব্দ করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ভূরুঙ্গামারী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার মামলা নম্বর-১৫ এবং তারিখ ০৯/০৫/২০২৬ ইং।
ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সারাদেশব্যাপী চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি, অফলাইন ও অনলাইন জুয়া এবং ক্যাসিনো খেলার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশ যে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে, সেটি সফল করতে আমরা সংকল্পবদ্ধ। ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের অধীনস্থ দুটি থানা এলাকায় মাদক কারবারি ও জুয়াড়িদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সাধারণ জনগণকে এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।