প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, হবিগঞ্জের নিজস্ব প্রতিবেদক হাফিজুর রহমান নিয়নসহ তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে হবিগঞ্জে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার দুপুরে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন জেলার প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা। দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত কর্মসূচি চলে।
হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব সভাপতি শোয়েব চৌধুরী। সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফ সেলিমের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাবান মিয়া, রুহুল হাসান শরীফ, রাসেল চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাসুদ আলী ফরহাদ, প্রদীপ দাশ সাগর, শাকিল চৌধুরী, জাকারিয়া চৌধুরী, মীর আবদুল কাদির, সহিবুর রহমান, দেওয়ান শোয়েব রাজা ও এম এ রাজা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানি করা হচ্ছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক।
তারা অভিযোগ করেন, একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জেরে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তারা আরও বলেন, সংবাদ প্রকাশের কয়েক মাস পর এ ধরনের মানহানির মামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তারা আহ্বান জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নিয়োগের জন্য পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা) নামে একটি এনজিও আবেদন করে। পরে নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার ৫৫৯ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমোদন দেয়।
এ বিষয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি দৈনিক প্রথম আলোতে “এক ব্যক্তিনির্ভর পাশা দিচ্ছে ১০ হাজার নির্বাচন পর্যবেক্ষক” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির কাঠামো ও কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়।
পরে নির্বাচন কমিশন বিষয়টি তদন্ত করে এবং পর্যবেক্ষক নিয়োগ স্থগিত করে বলে দাবি করা হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ হুমায়ুন কবীর গত ৬ মে হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, হবিগঞ্জের নিজস্ব প্রতিবেদক হাফিজুর রহমান নিয়ন এবং ঢাকা অফিসের প্রতিবেদক রিয়াদুল করিমকে আসামি করা হয়েছে। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।