মৌলভীবাজারে যোগদানের মাত্র সাতদিনের মাথায় জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রিয়াজুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শুক্রবার ১৫ মে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক জরুরি আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, নবনিযুক্ত এসপি মো. রিয়াজুল ইসলামকে অবিলম্বে জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্বভার হস্তান্তর করতে হবে।
একইসঙ্গে আগামী ১৬ মে’র মধ্যে তাকে পুলিশ সদর দপ্তরে সশরীরে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একজন জেলা পুলিশ সুপারের যোগদানের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে এ ধরনের প্রত্যাহারের ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। কারণ, সাধারণত কোনো জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন কিংবা প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন এসপিকে কিছুটা সময় দেওয়া হয়। সেখানে মাত্র সাত দিনের মাথায় এ সিদ্ধান্তকে অনেকেই “অস্বাভাবিক” হিসেবে দেখছেন।
তবে আইজিপি স্বাক্ষরিত আদেশে এই আকস্মিক প্রত্যাহারের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। ফলে জনমনে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। এটি কি শুধুই নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদল, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো বিশেষ কারণ এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড সচল রাখতে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে হঠাৎ এই রদবদলের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। অনেকেই বিষয়টিকে “নাটকীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত” হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। যদিও পুলিশ সদর দপ্তর কিংবা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
শুক্রবার ৮ মে মৌলভীবাজার জেলায় পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে কর্মস্থলে যোগদান করেছেন মো: রিয়াজুল ইসলাম।