পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো মৌলভীবাজার জেলা কারাগারেও বন্দিদের জন্য নেওয়া হয়েছে নানা আয়োজন। চার দেয়ালের ভেতরেও যেন ঈদের আনন্দ কিছুটা অনুভব করতে পারেন বন্দিরা সেই লক্ষ্যেই বিশেষ খাবার, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৮ টায় কারাগারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে কারাবন্দিদের পাশাপাশি কারাগারের অভ্যন্তরে দায়িত্বরত কারারক্ষীরাও অংশ নেন। নামাজ শেষে বন্দিদের মাঝে পরিবেশন করা হয় ঈদের বিশেষ খাবার। সকালের নাস্তা হিসেবে ছিল মুড়ি ও পায়েস। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে কারাগারে আসেন বন্দিদের স্বজনরাও। প্রায় শতাধিক স্বজনকে সেমাই, মুড়ি ও বাচ্চাদের চকলেট দিয়ে বরণ করে নেয় কারা কর্তৃপক্ষ।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে ৬৬৩ জন বন্দি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া ঈদের দিন বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে আসা দর্শনার্থীদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থাসহ আপ্যায়ন ও বাড়ি থেকে বন্দিদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। ঈদের দিন মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে বন্দিদের জন্য পায়েস, সেমাই ও মুড়ির ব্যবস্থা করা হয়। দুপুরের খাবারে থাকবে বিশেষ আয়োজন। মেন্যুতে রয়েছে পোলাও, গরু অথবা খাসির মাংস, মুরগির রোস্ট, ডিম, মিষ্টি, কোল্ড ড্রিংকস এবং পান-সুপারি। এছাড়া রাতের খাবারে বন্দিদের পরিবেশন করা হবে ভাত, মাছ ও আলুর দম।
কর্তৃপক্ষ জানান, শুধু উন্নত মানের খাবারই নয়, কারাগারে বন্দিদের চিত্তবিনোদনের জন্য বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের সাধ্যমতো এসব অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকে।
মৌলভীবাজার জেলা কারাগার পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক। এসময় তিনি কারাগারের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং বন্দিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
বন্দিদের আত্মীয়-স্বজনরা জানান, আজ সবাই আসামিদের সঙ্গে দেখা করার জন্য এসেছেন। তাদের আপ্যায়ন করা হচ্ছে এবং খাবারের আয়োজনও রয়েছে। আজ আমরা সহজেই তাদের সঙ্গে দেখা করতে ও কথা বলতে পারছি।
মৌলভীবাজার জেলা কারাগারের জেলার কাজী মাজহারুল ইসলাম বলেন, মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে আটক বন্দিদের জন্য ঈদের বিশেষ খাবারের আয়োজন, জামাতে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা এবং প্রতিটি বন্দির জন্য একবার করে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাত, সরকারী মোবাইলে কথা বলা, বাড়ি হতে রান্না করা খাবার খাওয়ার সুযোগসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ঈদ উপলক্ষে মাননীয় আইজি প্রিজন্স মহোদয়ের নির্দেশনায় বন্দিরা ঈদের তিন দিনের যেকোনো একদিন বাড়ি থেকে খাবার গ্রহণ করতে পারবে। এছাড়া তারা পাঁচ মিনিট বিনামূল্যে কথা বলার সুযোগ পাবে এবং একদিন বিশেষ সাক্ষাতের সুযোগও দেওয়া হবে।
পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহার আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার লক্ষ্যেই আজ এই আয়োজন করা হয়েছে। জেলখানায় যারা বন্দি রয়েছেন, তাদের সঙ্গেও আমরা ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছি। তাদের জন্য উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সুন্দর পরিবেশে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের জন্য আন্তরিক ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।