নওগাঁর রানীনগর উপজেলা পরিষদের চিরচেনা সরকারি কোয়ার্টারগুলো কিছুদিন আগেও
অযত্ন অবহেলার কারণে জরাজীর্ণ ও বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছিল । তখন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বাহিরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হতো। কিন্তু সেই চিত্র এখন বদলে গেছে। আধুনিক নান্দনিকতায় ফিরে এসেছে হারানো সুশৃংখল ও মনোরম পরিবেশের প্রাণচাঞ্চল্য।
চাহিদার তুলনায় নতুন করে আবাসন সংকট দেখা দিয়েছে।
এসব আবাসনে বর্তমানে নেই কোনো খালি ফ্ল্যাট। সীমিত আবাসন সুবিধা থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এখন স্বস্তি ও আস্থার ঠিকানা হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিষদ চত্বরে বর্তমানে শাপলা, রজনীগন্ধা, পলাশ ও কৃষি ভবন কোয়ার্টারসহ একটি ডরমিটরি রয়েছে। ডরমিটরি ছাড়া প্রতিটি দ্বিতল কোয়ার্টারে রয়েছে চারটি করে আবাসিক ফ্ল্যাট। উপজেলার প্রায় ৩১টি সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তুলনায় আবাসন সুবিধা অপ্রতুল হলেও সুন্দর পরিবেশ ও উন্নত ব্যবস্থাপনার কারণে কোয়ার্টারগুলোর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রাকিবুল হাসান দায়িত্ব গ্রহণের পর কোয়ার্টারগুলোর উন্নয়নে ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নেন।প্রত্যক্ষ তদারকিতে ভবনগুলোতে রং করা, নতুন টাইলস স্থাপন এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এতে পুরো উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসেছে দৃশ্যমান আমল পরিবর্তন।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি কোয়ার্টারের চারপাশ পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি। বিভিন্ন সবজির বাগান সবুজ গাছপালা আর গোছানো পরিবেশ যেন সরকারি আবাসনকে দিয়েছে এক নতুন প্রাণ। বাসিন্দাদের চোখে মুখেও ফুটে উঠেছে স্বস্তির ছাপ। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী মনে করছেন, কর্মব্যস্ত দিনের শেষে এমন সুন্দর ও শান্ত পরিবেশ মানসিক প্রশান্তিও এনে দিচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন,
সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও যত্নশীল রক্ষণাবেক্ষণের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। রাণীনগর উপজেলা প্রশাসনের এই অনন্য উদ্যোগ অন্য অনেক উপজেলার জন্যও অনুসরণের যোগ্য দৃষ্টান্ত হতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রাকিবুল হাসান বলেন, সরকারি আবাসন শুধু থাকার জায়গা নয়, এটি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বস্তি ও কর্মস্পৃহা বাড়ানোর একটি উত্তম মাধ্যম। সীমিত সুযোগের মধ্যেও সুন্দর ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।