কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক। সোনালি ধানের স্বপ্ন ভেসে গেছে পানিতে, চারদিকে এখন হতাশার ছায়া। এই সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সরকার তিন মাস মেয়াদি বিশেষ মানবিক সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) অষ্টগ্রাম উপজেলার বড় হাওর এলাকা পরিদর্শন শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সহায়তা দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা প্রাথমিক ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।
ক্ষতির পরিমাণ অনুযায়ী কৃষকদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে সহায়তা দেওয়া হবে। প্রত্যেক কৃষক প্রতি মাসে ২০ কেজি করে চাল পাবেন। এছাড়া নগদ সহায়তায় বেশি ক্ষতিগ্রস্তরা পাবেন ৭,৫০০ টাকা, মাঝারি ক্ষতিগ্রস্তরা ৫,০০০ টাকা এবং কম ক্ষতিগ্রস্তরা ২,৫০০ টাকা করে। এই সহায়তা টানা তিন মাস চলবে।
সহায়তা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে বিশেষ কার্ড ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের শনাক্ত করে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
তালিকা প্রণয়ন প্রসঙ্গে মো. সাইদুর রহমান খান বলেন, মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের ব্লক সুপারভাইজার, উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটি নির্ভুল তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। অতীতে এ ধরনের তালিকা নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। একাধিক ধাপে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করা হবে, যাতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরাই সহায়তার আওতায় আসেন।
এদিকে হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশির মাঝে দাঁড়িয়ে কৃষকদের চোখে এখন অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট। সোনালি ধানের স্বপ্ন ভেসে গেছে পানিতে, আর সেই সঙ্গে বেড়েছে দুশ্চিন্তা। তবে সরকারের এই সহায়তা কর্মসূচি তাদের মধ্যে কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার করছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়মতো এবং সঠিকভাবে সহায়তা পৌঁছানো গেলে কৃষকেরা আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। তখন হাওরের মাঠে ফিরবে সেই চিরচেনা সোনালি ধানের হাসি।