• সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন
Headline
দুর্গাপুরে নিরাপদে বসবাসের দাবিতে হিন্দু পরিবারের সংবাদ সম্মেলন গোপালগঞ্জ ছাড়া দেশের সব জেলায় জুলাই পদযাত্রা করবে এনসিপি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে মৌলভীবাজারে গণমিছিল কুমিল্লায় উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে: মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন শায়েস্তাগঞ্জে সাবেক নারী ইউপি সদস্য হত্যা মামলায় ফারুক গ্রেপ্তার মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গলে মা’দক প্রতিরোধে সচেতনতামুলক সভা সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়ালাইসিস ইউনিট স্থাপন হবে-স্বাস্থ্যমন্ত্রী পাঁচবিবিতে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে দুই পরীক্ষার্থী বহিস্কার গোপালগঞ্জে সাড়ে ৩শ শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস বিতরণ আমাকে বৃক্ষ হিসেবে রোপন করুন,আমি আপনাদের ফল দিবো, মেয়র প্রার্থী

রাণীনগরে বেড়িবাঁধে ধসের আশঙ্কা, দুশ্চিন্তায় নদীর তীরের মানুষ

রাজেকুল ইসলাম, নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশকাল : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট যমুনা নদীর তীরে মালঞ্চি-নান্দাইবাড়ি-কৃষ্ণপুর গ্রামীণ বেড়িবাঁধ এখন এলাকাবাসীর জন্য এক ভয়াবহ আতঙ্কের নাম। বছরের পর বছর অবহেলা, দায়সারা সংস্কার আর প্রশাসনিক উদাসীনতায় বাঁধটির প্রায় ৬ কিলোমিটার অংশ চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে শত শত বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে হুমকির মুখে রয়েছে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ রাণীনগর-আত্রাই সড়ক।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাকিবুল হাসান। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশির দশকে নির্মিত এই গ্রামীণ বেড়িবাঁধটি ছোট যমুনা নদীর তীরবর্তী কয়েকশ পরিবার ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু স্থায়ী সংস্কারের অভাবে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই নদীর তীব্র স্রোত ও ভাঙনে বাঁধটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়। অতীতেও একাধিকবার বাঁধ ভেঙে রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, নষ্ট হয়েছে হাজার হাজার হেক্টর জমির ধানসহ বিভিন্ন ফসল।

স্থানীয় বাসিন্দা আশিক, সম্রাট ও রাসেলসহ একাধিক নারী-পুরুষ জানান, বর্ষা এলেই তাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। কখন বাঁধ ভেঙে বাড়িঘর, গবাদিপশু ও ফসল পানির নিচে চলে যায় সেই আতঙ্কে দিন কাটে তাদের। অভিযোগ করে তারা বলেন, পানি বাড়লেই কর্তৃপক্ষের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়, কিন্তু বর্ষা শেষ হলে বাঁধ সংস্কারের প্রতিশ্রুতিও হারিয়ে যায়।

স্থানীয় যুবক ফজলে রাব্বি বলেন, “নদীভাঙনে আমরা বারবার সর্বস্ব হারাচ্ছি। ঘরে পানি ঢুকে পড়ে, গরু-ছাগল ভেসে যায়, ফসল নষ্ট হয়। পৈত্রিক সম্পত্তি পর্যন্ত নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। অথচ স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রাকিবুল হাসান বলেন, “বাঁধটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এটি ভেঙে গেলে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং রাণীনগর-আত্রাই সড়কও হুমকির মুখে পড়বে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category