রংপুর আইন কলেজে এক শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকে এক মানসিক ভারসাম্যহীন শিক্ষার্থীকে মারধর ও কক্ষ ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুর আইন কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাজেদ হোসেন তাতা। তবে তিনি জানান, কলেজের ভেতরে মানসিক ভারসাম্যহীন শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটলেও তার কক্ষে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুনতাসির মামুন নীরব।
তিনি রংপুর নগরীর কামাল কাছনা এলাকার মো. কবির মিয়ার ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, এলএলবি প্রথম বর্ষের ক্লাস চলাকালে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নীরব হঠাৎ তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন দিয়ে সহপাঠীদের ভিডিও ধারণশুরুকরেন। পরে উপস্থিতির হাজিরা শিট নিয়ে কলেজের বাইরে দৌড়ে যান এবং পাশের আবাসিক এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে ভিডিও করতে থাকেন। এতে স্থানীয়দের ধাওয়ার মুখে তিনি আবার কলেজে ফিরে আসেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কলেজের অধ্যক্ষ ও স্টাফরা শিক্ষার্থীদের সহায়তায় তাকে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে নিয়ে যান। এ সময় বাইরে থেকে কয়েকজন ব্যক্তি কলেজে প্রবেশ করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। পরে তারা অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. সাজেদ হোসেন তাতা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ভিডিও করায় প্রথমে সহপাঠীরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। পরে ওই শিক্ষার্থী বাইরে গিয়ে স্থানীয়দের ভিডিও করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। আমরা তাকে নিরাপদে রাখার চেষ্টা করেছি। পরে বাইরে থেকে কিছু লোক এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে মারধরের ঘটনা ঘটায়। পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে শিক্ষার্থীকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।