রাত তখন প্রায় ১২টা, মৃত্যুর মুখে থেকে স্ত্রী আয়েশাকে মোবাইল ফোনে বলে, আমাকে বাঁচাও। জাকির আমাকে এখনি মেরে ফেলবে। এটাই ছিল স্ত্রীর সাথে স্বামী হানিফ মিয়ার শেষ কথা। এমনই এক হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছে কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল আনুমানিক সাড়ে আটটার সময় ফরিদপুর ইউনিয়নে ব্রাহ্মপুত্র নদী সংলগ্ন স্থান থেকে হানিফ মিয়ার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহত হানিফ মিয়া ফরিদপুর ইউনিয়নের আনন্দ বাজার এলাকার ইব্রাহিম মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন কাঠ ব্যবসায়ী ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ১৩ মে বুধবার রাত প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশী লসকর মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন হানিফ মিয়াকে একটি বিশেষ কাজের কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। বাড়ি থেকে যাওয়ার পর রাত সাড়ে ১২টার সময় হানিফ মিয়া তার স্ত্রী আয়েশার মোবাইলে ফোন দিয়ে বলেন, আয়েশা আমাকে বাঁচাও। জাকির ও তার সাথে কয়েকজন লোক মিলে আমাকে মেরে ফেলবে। এমন খবর শুনে তাৎক্ষণিক হানিফ মিয়ার পরিবারের লোকজন লসকর মিয়ার বাড়িতে ছুটে যায়। বাড়িতে গিয়ে দেখেন গেট বন্ধ। এখানে কাউকে না পেয়ে এলাকার লোকজনকে সাথে নিয়ে হানিফ মিয়াকে খুঁজতে থাকেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর লসকর মিয়ার বাড়ির প্রায় দুইশ ফুট দূরে একটি পতিত জমিতে দেখা যায়, একটি পতিত জমিতে হানিফ মিয়ার মরদেহ পড়ে আছে। ঘটনার পর, পরই জাকির হোসেন ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, জাকির হোসেন দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক ব্যাবসার সাথে জড়িত। সে ফরিদপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন স্থানে মাদক বিক্রি করতো এবং বিভিন্নরকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িত থাকতো। স্থানীয়দের ধারণা, মাদক নিয়ে বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
ঘটনার তদন্ত ও হত্যাকরীকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেন সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ ।