ঈদের আনন্দ শেষ না হতেই সিলেটের বিয়ানীবাজারে কয়েক দিনের ব্যবধানে তিনটি অস্বাভাবিক মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এক স্কুলছাত্রী ও এক অটোরিকশা চালকের মৃত্যু আত্মহত্যা হিসেবে আলোচনায় এলেও, এক যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে উঠেছে হত্যার অভিযোগ।
গত ২৯ মে মাথিউরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাওহীদা জান্নাত (১৬) নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যায়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে তার মোবাইল ফোন জব্দ করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে একজন সন্দেহভাজনের নামও পুলিশের কাছে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর ৩১ মে খাসাড়িপাড়া গ্রাম থেকে সাদিকুল ইসলাম রুপক (৩০)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, তার দুই হাত বাঁধা ছিল, তাই তারা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে।
সোমবার (১ জুন) লাউতা ইউনিয়নের বারইগ্রামে অটোরিকশা চালক শামীম আহমদ ধনু (৪৭) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের সময় তার দুই পা বাঁধা ছিল বলে জানা গেছে। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ছাড়া মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মহত্যা বা আত্মহননের পেছনে পারিবারিক সংকট, মানসিক চাপ, হতাশা, সম্পর্কের জটিলতা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মতো নানা কারণ থাকতে পারে। তারা পরিবার ও সমাজকে মানসিক সংকটের লক্ষণ গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
কয়েক দিনের ব্যবধানে বিয়ানীবাজারের এই তিন মৃত্যু শুধু তিনটি পরিবারের শোক নয়, বরং সমাজের জন্যও একটি সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন সচেতন