মাটি খেকো চক্রের হাত যেন এতোটাই লম্বা যে তাদের কবল থেকে সরকারি বেড়িবাঁধও রক্ষা পাচ্ছে না। এবার মাটি বহনের জন্য খোদ খালের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সরকারি বেড়ি বাঁধ কেটে রাস্তা বানানো হয়েছে। দেখে মনে হবে সরকারি অনুদানে চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু ফসলি জমিতে পুকুর খননের মাটি নিয়ে যাওয়া হবে, তাই ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে এই কাজ করা। মাটি খেকোদের তান্ডবে দিন দিন কমে যাচ্ছে ফসলি জমি। তাদের কারণে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক ও এলাকার পরিবেশ। তবে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছে তাদের হাত কত লম্বা ?
এই অবিশ্বাস্য দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের ৩নং স্লুইস গেট এলাকায়। ওই গেট থেকে বয়ে যাওয়া শ্রীমতখালী খালের সরকারি বেড়ি বাঁধ কেটে ফসলি জমিতে পুকুর খননের জন্য মাটি বহনের রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগ ইয়ারুল নামের এক ইটভাটা ব্যবসায়ী তার ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য এই কাজ করছে বলে দাবি একাধিক ব্যক্তির। তবে নামমাত্র সরকারি উন্নয়ন কাজে কিছু মাটি ব্যবহার হবে বলেও জানান একাধিক ব্যক্তি।
এদিকে অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি কেটে পুকুর খনন ও মাটি বিক্রির অভিযোগে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শমসের আলী (৫৯) নামে এক ব্যক্তির ৬০হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (১৫জুন) রাতে সেখানে অভিযান চালিয়ে এই জরিমানার আদেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন। পরে জরিমানায় ধার্যকৃত টাকা রাত ১২টার দিকে আদায় করা হয় বলে জানান মোবাইল কোর্টের বিচারক নাবিলা ইয়াসমিন।
এর আগে এদিন রাত দশটা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দুই ঘন্টাব্যাপী ওই এলাকায় মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালান এই কর্মকর্তা। এসময় পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থেকে সার্বিকভাবে সহযোগীতা করেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের ৩নং স্লুইস গেট এলাকায় ফসলি ওই জমি থেকে মাটি বহনের জন্য তৈরি করা হয়েছে রাস্তা। আর সেই জন্য গেট থেকে হামিদুপুর বাজারে যাওয়ার জন্য ওই খালের পাশ দিয়ে করা মাটির রাস্তাটি কেটে ড্রাম ট্রাক চলাচলের জন্য সুবিধা করে নেওয়া হয়েছে।
তবে এই মাটি কাটার সাথে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন ইটভাটা ব্যবসায়ী ইয়ারুল। তিনি মুঠোফোনে বলেন, আমি মাটি কাটছি না। আমার এক বন্ধুর পুকুর ওটা। তবে অনেকে আমার নাম বলছিল।
বিচারক নাবিলা ইয়াসমিন জানান, অনুমতি ছাড়াই রাতের অন্ধকারে ভেকু (এস্কেভেটর) মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি কেটে পুকুর খনন ও মাটি বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানা পুলিশকে সাথে নিয়ে সোমবার রাতে উপজেলার মিরাট ৩নং স্লুইচগেট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে জমি থেকে মাটি খনন করে ট্রাক্টর যোগে বিক্রির সময় ধনপাড়া এলাকার শমসের আলীকে হাতে-নাতে আটক করা হয়। পরে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শমসের নামের ওই ব্যক্তির ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরবর্তীতে রাত ১২টার দিকে জরিমানার টাকা আদায় করা হয়। অবৈধভাবে পুকুর খনন ও মাটি বিক্রির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।