কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে জলমহালের নিয়ন্ত্রণ ও ইজারাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে এ নোটিশ দেওয়া হয়। এতে আগামী সাত দিনের মধ্যে জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলামের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের আখড়াবাজারে বিলমাকশা জলমহালকে কেন্দ্র করে সৈয়দ সাঈদ আহমেদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন এবং তাঁদের অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, সংঘর্ষের ঘটনাটি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে সৈয়দ সাঈদ আহমেদের বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “দায়িত্বশীল পদে থেকেও তিনি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। সে কারণেই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।”
অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ বলেন, “আমি নোটিশ পেয়েছি। এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। যথাসময়ের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দেব।”
কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মীর কামরুল হাসান কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ হয়নি বলে জানিয়েছেন অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রোকনুজ্জামান। তিনি বলেন, “এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। কাউকে আটকও করা হয়নি।”
প্রসঙ্গত, বিলমাকশা জলমহালের ভোগদখল ও ইজারা নিয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহীনের মধ্যে প্রায় এক বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এর জেরে শুক্রবার দুপুরে দুই পক্ষের সমর্থকেরা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।