সিলেটের ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সোয়া ৭টার দিকে ওসমানীনগর থানার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে রোডে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালের দিকে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-২৫৬৩) এবং ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচ (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৫৯৮৭)-এর মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের প্রচণ্ড ধাক্কায় ইউনিক পরিবহনের বাসটি রাস্তার পাশে নিচু ধানক্ষেতে পড়ে যায়।
এতে ঘটনাস্থলেই ইউনিক বাসের সাতজন যাত্রী মারা যান। তাঁদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থানার গোবরীনা লক্ষ্মীপুর গ্রামের সাফি মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম (৫০) ভৈরব উপজেলার চন্ডিবের গ্রামের বাউল শিল্পী পেহেলি ভৈরবী (১৬) রয়েছেন।
পরবর্তীতে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এ দুজন হলেন- ঢাকার বিক্রমপুর এলাকার জাহাঙ্গীর শেখের তিন বছর বয়সী কন্যা শিশু জাইফা ইসলাম এবং সিলেট মহানগরের সোবানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় (প্রীতম) (২২)।
তাঁদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে- দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ৯ জনের সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী ছিলেন। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত নুরুন নাহার (২৪), মো. মফিজ মিয়া (২৯), ফারুক মিয়া (২৯), মুক্তার (২৯), জাহাঙ্গীর (৩০), আফরুজা (২৯), আফজাল, বাবুল ও ওহার- এই ৯ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পরপরই মহাসড়কের উভয় পাশে কিছু সময়ের জন্য যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ও শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি উদ্ধার ও যানজট নিরসন করে। বর্তমানে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এসব তথ্য ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা নিশ্চিত করেছেন।