নেত্রকোণার কলমাকান্দায় কবরস্থান নিয়ে বিরোধের জেরে দু পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের আমগড়া এলাকায় শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে এই ঘটনা ঘটে।
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আমগড়া বাজারে বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের চিকিৎসার জন্য কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছে।
স্থানীয় নাগরিকরা জানান, আমগড়া বাজারের পাশে একটি কবরস্থান রয়েছে। এই কবরস্থানে স্থানীয় কয়েকটি গ্রামের মানুষ মারা গেলে দাফন করা হয়। অন্তত ৬০ থেকে ৭০ বছর ধরে পোনেশ্বর- আমগড়া কবরস্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়ে আসছে কবরস্থানটি। সম্প্রতি একটি পক্ষ দাবি করে যেহেতু কয়েক গ্রামের মানুষের দাফন করা হয় তাই কবরস্থানটির নাম হবে সার্বজনীন গোরস্থান। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে তা চরম বিরোধে রূপ নেয়।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, রংছাতি ইউনিয়নের আমগড়া এবং পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়ার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ১৮ কাঠা (১৪৪ শতাংশ) আয়তনের পুরানো গোরস্থানের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ। আমগড়া গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা গোরস্থানের রাস্তার পাশের অংশে ছোট দোকানপাট নির্মাণ করে বাজার বসানোর উদ্যোগ নিলে পানেশ্বর পাড়ার লোকজন তাতে তীব্র বাধা দেয়। পানেশ্বর পাড়ার দাবি, এটি ওয়াকফকৃত সম্পত্তি এবং এটি কেবল কবরস্থান হিসেবেই ব্যবহৃত হবে।
চলমান এ বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সম্প্রতি ১৫ দিন আগে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে শালিস দরবার অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শুক্রবার সকালে গোরস্থানে ব্যানার ঝোলানোকে কেন্দ্র করে পুনরায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে।
পুলিশ জানায়, এই সংঘর্ষে নারীসহ ৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। আমগড়া বাজারে বেশকিছু দোকানেও হামলা,ভাংচুর হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে আমগড়া ও নল্লাপাড়া গ্রামের মানুষজন পোনেশ্বর হররামে হামলা চালিয়ে বাড়ি-ঘর ভাংচুরসহ লুটপাট চালায়।
কলমাকান্দা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এই ঘটনার পেছনে মূলহোতা কারা তা খুঁজে বের করতে পুলিশ কাজ করছে।