শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, “আমরা দায়িত্ব পেয়েছি এই জাতিকে সুশিক্ষিত করার। যে যত ট্রল আর অপবাদই দিক না কেন, আমাদের সঠিক দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করা যাবে না।” তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়ার পথে সমালোচনা ও অপপ্রচারকে গুরুত্ব না দিয়ে সরকার দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন ও নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে নওগাঁ জেলা ও নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
এর আগে সকালে শহরের বরুনকান্দি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নামফলক উন্মোচন এবং পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী।
পরীক্ষা ইস্যুতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিক পরীক্ষা নিয়ে আন্দোলন ও সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এক শিক্ষার্থী পরীক্ষার তারিখ পেছানোর অনুরোধ করলেও জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনা করেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, সারা দেশে বৃষ্টিপাত হলেও কেবল কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার সমস্যা দেখা দিয়েছিল এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল।
তিনি বলেন, বৃষ্টিতে শিক্ষার্থীদের কষ্ট হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। কিন্তু পরে একটি পক্ষ ঘটনাটিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল ও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, “যারা ট্রল করেছে, তাদের অনেকেই পরীক্ষার্থী ছিল না। তারপরও দায়িত্ব পালনে আমরা কখনো পিছিয়ে যাব না।”
সমালোচকদের উদ্দেশে মন্তব্য
একজন শিক্ষকের নাম উল্লেখ না করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ তাকে ‘পরীক্ষা মিলন’ বলে ব্যঙ্গ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পরীক্ষা ছাড়া কোনো ডিগ্রি বা পিএইচডি হয় না। দেশে অনেক পিএইচডি হয়েছে, সেগুলোও যাচাই করা দরকার।”
শিক্ষা হবে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা। তাদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে সরকার নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। তাঁর ভাষায়, ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বিশ্বের একটি ‘এডুকেশনাল হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিদেশে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সাফল্যের পরিচয় দিচ্ছে। সেই সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা হবে, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে আসে।
নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনার প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় হবে, যেখানে পড়াশোনা করার জন্য শিক্ষার্থীরা আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করবে।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধন জেলার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি শিক্ষার্থীদের শুধু সরকারি চাকরির চিন্তায় সীমাবদ্ধ না থেকে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম বাড়ানোর আহ্বান জানান।
পরীক্ষা ইস্যুতে আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শিক্ষার মান ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো দাবি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শিক্ষামন্ত্রী সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, সেটিই গণতান্ত্রিক চর্চার উদাহরণ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিতি
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, নওগাঁ জেলার পাঁচ সংসদ সদস্য, রাজশাহী ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষা কার্যক্রমের যাত্রা শুরু
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার হিসাববিজ্ঞান ও আইন বিভাগে ৪০ জন করে মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।