ভালোবাসার টানে ঘর ছেড়ে নতুন জীবনের এর স্বপ্ন দেখেছিলেন জুথি আক্তার (২১)। দুই পরিবারের আপত্তি পেরিয়ে সেই প্রেমের বিয়েও একসময় মেনে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যে সংসারকে ঘিরে ছিল সুখের স্বপ্ন, মাত্র চার মাসের ব্যবধানে সেই সংসারই পরিণত হয় যন্ত্রণা আর অশ্রুর ঠিকানায়। শেষ পর্যন্ত বিষপানে নিভে যায় এক তরুণীর জীবন।
হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায়। নিহত জুথি আক্তার উপজেলার কালিগ্রাম মরুপাড়া গ্রামের জয়নাল শেখের মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রেমের সম্পর্কের জেরে গত ১২ মার্চ রাতোয়াল পূর্বপাড়া গ্রামের মোকাদ্দেছ আলী শুভ (২৩)-এর সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করেন জুথি। পরে দুই পরিবার বিষয়টি মেনে নিয়ে তাদের সংসার শুরু হয়। কিন্তু সেই সংসারে সুখ বেশিদিন টেকেনি।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামীর বেকারত্বকে কেন্দ্র করে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হতো। পাশাপাশি শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা জুথিকে বিভিন্নভাবে অপমান, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন। দিনের পর দিন সেই নির্যাতন সহ্য করতে করতে একসময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি।
জুথির মা আরজিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মেয়ে আমাকে প্রায়ই ফোন করে তার কষ্টের কথা বলত। আমি তাকে ধৈর্য ধরতে, সংসার টিকিয়ে রাখতে বলতাম। কে জানত, এটাই আমার মেয়ের সঙ্গে শেষ কথাগুলোর একটি হয়ে থাকবে।”
অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে জুথিকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও অপমান করা হয়। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তিনি বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবন করেন। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মায়ের আরও অভিযোগ, মেয়ের মৃত্যুর পর স্বামী ও শ্বশুর মরদেহ হাসপাতালের বারান্দায় রেখে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে আরজিনা বেগম বাদী হয়ে জুথির স্বামী মোকাদ্দেছ আলী শুভ, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে রাণীনগর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
রাণীনগর থানার ওসি জাকারিয়া মন্ডল জানান, নিহত জুথির মাতা আত্মহত্যার প্ররোচনায় একটি মামলা দায়ের করেছে।গুরুত্বের সাথে তদন্ত কার্যক্রম ও আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।