জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও সাম্য-মানবতার চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘নজরুল বর্ষ উদযাপন ২০২৬’-এর আওতায় সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজাপুর ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় ইউনিয়নের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিভিত্তিক চারটি বিভাগে বিভক্ত করে পাঁচটি ইভেন্টে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
ইভেন্টগুলো ছিল—নজরুলসংগীতের সঙ্গে নৃত্য, নজরুলসংগীত, নজরুলের কবিতা আবৃত্তি, নজরুলের অবয়বের ওপর ছবি আঁকা এবং নজরুলের নাটকে একক অভিনয়। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘ক’ বিভাগ, তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘খ’ বিভাগ, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘গ’ বিভাগ এবং নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘ঘ’ বিভাগে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতায় সভাপতিত্ব করেন রাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মমিন। সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন বেলকুচি উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) মো. আব্দুল মমিন।
শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা ও সৃজনশীলতা মূল্যায়নে নয়জন বিচারক দায়িত্ব পালন করেন। বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতিটি ইভেন্ট থেকে প্রথম স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীকে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
প্রতিযোগিতায় বেলকুচির কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এর মধ্যে শিশুমেলা বিদ্যানিকেতন, মাইঝাইলের তিনজন, মাইঝাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনজন এবং রাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষার্থী উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
কেন এই নজরুল বর্ষ
নজরুল বর্ষ উদযাপনের অন্যতম লক্ষ্য হলো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, কবিতা, সংগীত ও জীবনদর্শনের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে গভীরভাবে পরিচিত করে তোলা। তাঁর সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের চেতনাকে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চা ও সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে উৎসাহিত করাও এ আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।
চেতনার উত্তরাধিকার নতুন প্রজন্মের হাতে
রাজাপুর ইউনিয়ন পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতা শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়; শিক্ষার্থীদের কাছে নজরুলের সৃষ্টিকর্ম ও জীবনদর্শনকে নতুনভাবে তুলে ধরারও একটি কার্যকর উদ্যোগ। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা উপজেলা পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ পাবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রতিযোগিতার মঞ্চে নজরুলের কবিতা, গান ও নাটকের চর্চার মধ্য দিয়ে তাঁর সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার আদর্শ শিক্ষার্থীদের চিন্তা ও মননে জায়গা করে নেবে। আর সেই চর্চাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে নজরুলের চেতনার উত্তরাধিকার আরও শক্তভাবে পৌঁছে দেবে।