জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় প্রতিবেশী ভাতিজার স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননীকে নিয়ে চাচা শ্বশুর পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি গত ১৪ জুলাই উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের হাটবাড়ী উত্তরপাড়া গ্রামে ঘটেছে। এ ঘটনায় গত ১৬ দিন ধরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডোয়াইল ইউনিয়নের হাটবাড়ী গ্রামের মৃত তোফাজ্জল মোল্লার ছেলে শফিক মোল্লার সঙ্গে একই গ্রামের মৃত শামীম মোল্লার স্ত্রী ঝর্ণা বেগমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কে শফিক মোল্লা ঝর্ণা বেগমের চাচা শ্বশুর। প্রায় দুই বছর আগে মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ঝর্ণা বেগমের স্বামী শামীম মোল্লার মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। ঝর্ণা বেগম দুই সন্তানের জননী এবং শফিক মোল্লা এক সন্তানের জনক।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১৩ জুলাই রাতে ঝর্ণা বেগমের ঘরে শফিক মোল্লাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান ঝর্ণার শ্বশুর শাহজাহান মোল্লা। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ১৪ জুলাই দুজনই এলাকা ছেড়ে চলে যান। এ ঘটনায় শাহজাহান মোল্লা বাদী হয়ে সরিষাবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শফিক মোল্লার স্ত্রী শিমু বেগম বলেন, “আমাদের ১৭ বছরের দাম্পত্য জীবন। গোপনে তিনি ভাতিজার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। এখন তাকে নিয়ে পালিয়ে গেছেন। সমাজের মানুষ যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই আমি মেনে নেব।
ঝর্ণা বেগমের শ্বশুর শাহজাহান মোল্লা বলেন, “আমার ছেলে মারা যাওয়ার পর থেকে পুত্রবধূ বেপরোয়া হয়ে ওঠে। পরে আমার চাচাতো ভাই শফিকের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
একপর্যায়ে আমি তাদের হাতেনাতে ধরে ঘরে তালা লাগিয়ে দিই। পরদিন তারা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এখন আমার দুই নাতনির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শফিক মোল্লার মোবাইল ফোনে সাংবাদিকরা একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে ঝর্ণা বেগমের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র-সময়ের কন্ঠস্বর