• সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন
Headline
গোপালগঞ্জ পৌরপার্কে বৃক্ষমেলা ২০২৬ উদ্বোধন, র‍্যালিতে জনস্রোত সাতক্ষীরার স্বাস্থ্যসেবার প্রশংসায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী শাখাওয়াত হোসেন তালায় হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী আগমন তালা হাসপাতালে বরখাস্ত ২ জন ভ্যানচালকের মুখে ফিরল হাসি, মানবিক উদ্যোগে নতুন ভ্যান উপহার সন্তানের অবহেলায় ৯৭ বছরের বৃদ্ধার শেষ ভরসা ভিক্ষা ঠাকুরগাঁওয়ে ৫৯০ পিস ইয়াবাসহ দুই মা’দক ব্যবসায়ী গ্রে’প্তার মহেশখালীতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ পরীক্ষা: ফলাফল স্থগিত সাতক্ষীরায় টানা বর্ষণে ভাসছে জনপদ, চরম ভোগান্তিতে নিম্ম আয়ের মানুষ টুঙ্গিপাড়ায় প্রতিবার ব্যালটে সিল মেরে নির্বাচিত হয়েছে শেখ হাসিনা: এস এম জিলানী সাতক্ষীরা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা

শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নে এগিয়ে চলেছেন কুড়িগ্রামের অনামিকা

মো.জাকারিয়া হোসেন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশকাল : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, দারিদ্র্য আর জীবনের নানামুখী প্রতিকূলতা—এসব যেন অনামিকা রায়ের পথচলার সঙ্গী। কিন্তু কোনো বাধাই তার স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। অদম্য মনোবল, কঠোর পরিশ্রম এবং শিক্ষার প্রতি গভীর ভালোবাসাকে পুঁজি করে এবার উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন কুড়িগ্রামের এই সংগ্রামী শিক্ষার্থী। প্রতিটি পরীক্ষার দিন যেন তার জন্য শুধু একটি পরীক্ষা নয়, বরং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে নতুন করে লড়াইয়ের আরেকটি অধ্যায়।

অনামিকার স্বপ্ন একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়া। উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে চান তিনি। তার বিশ্বাস, একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই দেন না, বরং একজন শিক্ষার্থীর জীবন গড়ারও কারিগর।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জন্মের পাঁচ বছর পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন অনামিকা। সেই অসুস্থতার পর থেকেই হাঁটুর নিচ থেকে তার দুই পা বেঁকে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এছাড়া কথাবার্তায়ও কিছুটা জড়তা রয়েছে। তবুও কখনো নিজের সীমাবদ্ধতাকে দুর্বলতা হিসেবে মেনে নেননি তিনি। প্রতিদিন নানা কষ্ট সহ্য করেও নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন।

চলতি শিক্ষাবর্ষে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর কলেজের ডিজিটাল টেকনোলজি অ্যান্ড বিজনেস শাখার শিক্ষার্থী অনামিকা উপজেলার বোয়াইলভীর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের ভেন্যু কেন্দ্র রাবাইতাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তার রোল নম্বর ৪৯৬৭৪২।

এর আগে ২০২৪ সালে গাগলা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিজের মেধা ও অধ্যবসায়ের পরিচয় দেন তিনি। এরপরও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে থাকেননি। বরং আরও দৃঢ় প্রত্যয়ে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে চলেছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অনামিকার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপই সংগ্রামের। শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাকে কখনো হতাশ করতে পারেনি। বরং প্রতিটি বাধাকে শক্তিতে পরিণত করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে।

অনামিকার গল্প শুধু একজন শিক্ষার্থীর নয়; এটি অদম্য ইচ্ছাশক্তি, আত্মবিশ্বাস ও স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়ার এক অনুপ্রেরণার গল্প। তার এই পথচলা সমাজকে মনে করিয়ে দেয়—প্রতিকূলতা যতই বড় হোক, দৃঢ় সংকল্প ও অধ্যবসায়ের কাছে কোনো বাধাই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে না।

শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে অনামিকা আজ এগিয়ে চলেছেন নতুন এক ভবিষ্যতের দিকে। তার এই সংগ্রামী জীবনগাথা নিঃসন্দেহে অন্যদের জন্য সাহস, অনুপ্রেরণা এবং আশার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category