• বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন
Headline
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে নবীগঞ্জে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের গণমিছিল ও সমাবেশ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে সাংবাদিক পেটালো বিএনপি-ছাত্রদল মৌলভীবাজারে ১১ দলীয় ঐক্যের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন রাঙামাটিতে ‘ফিরে দেখা রক্তঝরা জুলাই-আগস্ট’ শীর্ষক কথকতা অনুষ্ঠিত কুষ্টিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন গোসাইরহাটে ই’য়াবাসহ মা’দক কারবারি আটক সালিসের পর থানায় মামলা, আত্মগোপনে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা দিলেন,প্রতিমন্ত্রী মো: শরীফুল আলম কালীগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের গণ মিছিল আলোচনা সভা জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জকিগঞ্জে আলোচনা সভা

সালিসের পর থানায় মামলা, আত্মগোপনে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশকাল : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬

নেত্রকোনার এক জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগের পর থেকে অভিযুক্ত আত্মগোপনে রয়েছেন।

অভিযুক্ত রিপন মিয়া নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে। কয়েক বছর ধরে তিনি পাশের নন্দুরা গ্রামে বসবাস করছিলেন। ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাত ৮টার দিকে রিপন মিয়া ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান। সে সময় কিশোরীটি বাড়ির উঠানে রান্না করছিল এবং তার বাবা স্থানীয় বাজারে ও মা বাইরে কাজে ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সুযোগে রিপন জোরপূর্বক কিশোরীকে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে মেয়েটির চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তিনি পালিয়ে যান।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, কিশোরীকে কনটেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ ও জনপ্রিয় করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রিপন দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্ত্যক্ত করতেন। লোকলজ্জার ভয়ে পরিবারটি প্রথমে বিষয়টি প্রকাশ না করলেও পরে এলাকায় জানাজানি হলে সোমবার রাতে স্থানীয় একটি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে একটি সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সালিসে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে রিপন অভিযোগ স্বীকার করে উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চান। সেখানে তাকে পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে টাকা পরিশোধ করতে না পারলে নিজের বাড়ি ভুক্তভোগীর নামে লিখে দেওয়ার কথাও বলা হয়। পাশাপাশি তাকে এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সালিসের কয়েকটি ভিডিও মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওতে রিপন মিয়াকে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী পরিবার, সালিসে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে। পরে মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগীর বাবা নেত্রকোনা মডেল থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রিপন মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, দরিদ্র পরিবারের মেয়েটির পরিবার ও গ্রামবাসী বিচার চেয়ে তাদের কাছে এসেছিলেন। পরে স্থানীয়ভাবে সালিস হলেও একই সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সালিসে উপস্থিত স্থানীয় মাতব্বর মুখলেছুর রহমান দৌলত বলেন, রিপনের বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজের অভিযোগে সালিস অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে ভুক্তভোগীর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অন্যদিকে রিপন মিয়ার স্ত্রী চম্পা আক্তার বলেন, ঘটনার বিস্তারিত তিনি জানেন না। তার স্বামী নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, ঘটনা জানার পরপরই পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। ভুক্তভোগীর বাবার দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, পেশায় কাঠ মিস্ত্রি রিপন মিয়া ২০১৬ সাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও নির্মাণ করে পরিচিতি পান। ২০১৯ সালে তিনি ‘রিপন মিয়া’ নামে একটি ফেসবুক পেজ চালু করেন, যেখানে বর্তমানে প্রায় ১৯ লাখ অনুসারী রয়েছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category