বিয়ানীবাজারের এসএসসি পরীক্ষার্থী তাওহীদা জান্নাত (১৬) আত্মহননের চাঞ্চল্যকর ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর সাথে উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়কের অসম প্রেমের সম্পর্ক এবং ধর্ষণের অভিযোগে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
নিহত ছাত্রীর মা মোছা: সুলতানা বেগম বাদী হয়ে মঙ্গলবার বিকেলে বিয়ানীবাজার থানায় এ অভিযোগ প্রদান করেন। এ সময় তাওহীদার পিতা ইকবাল হোসেনসহ নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
এজাহারে উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক এনামুল ইসলাম (৩০)-কে একমাত্র অভিযুক্ত করা হয়। একই ইউনিয়নের শেখলাল গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে তিনি। তাওহীদার মা মোছা: সুলতানা বেগম জানান, ঈদের পরদিন ২৯শে মে শুক্রবার ভোর ৪ টার দিকে তাদের বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ করে এনামুল তার মেয়েকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা তার পিতা দেখে ফেললে তাকে খুন করার ভয় দেখিয়ে সে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। সকালে এ বিষয়ে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে এনামুলের সাথে প্রেম-প্রলোভন-ধর্ষণ বিষয়ে সবকিছু খুলে বলে। ঘটনা পরবর্তী সময়ে তাওহীদা একাধিকবার এনামুলকে ফোন করলে সে তাকে বিয়ে করতে পারবেনা বলে জানায়। একপর্যায়ে তার মেয়েকে গলায় ফাঁস দিয়ে মরতে বলে। তিনি জানান, এনামুলের এমন ব্যবহারে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে নিজ শয়নকক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে তাওহীদা।
বিয়ানীবাজারের মাথিউরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল তাওহীদা। সে পশ্চিমপার এলাকার ইকবাল হোসেনের মেয়ে। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক এনামুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে যোগযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ছবেদ আলী জানান, নিহত শিক্ষার্থীর মায়ের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, আলোচিত এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।