জাপানের কোবে শহরে কোবে-বাংলাদেশ কমিউনিটির উদ্যোগে কানসাই অঞ্চলের বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে এক বর্ণাঢ্য ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিসতা কোবে কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বৃষ্টি উপেক্ষা করে শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
এ সময় উদ্বোধনী বক্তব্য দেন কোবে সিটি গভর্নমেন্টের সাবেক কর্মকর্তা এবং বর্তমানে ওসাকা ইউনিভার্সিটি অব হিউম্যান সায়েন্সের শিক্ষক, টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার চাপড়ী বাজারের মাওলানা মো. গোলজারুল ইসলামের ছেলে ড. মেহেদী হাসান খান।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে ছিল সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক নানা আয়োজন। গান, নৃত্য, কৌতুক, অভিনয়, নারীদের বালিশ খেলা এবং কুপন লটারিসহ বিভিন্ন পর্বে অংশগ্রহণকারীরা উৎসবমুখর পরিবেশে সময় কাটান। অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় ঈদের ঐতিহ্যবাহী সেমাই, পোলাও, গরুর মাংসসহ বিভিন্ন দেশীয় খাবার।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে মোট ২৫৬ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ওসাকার পরিচিত শিল্পী রুমি খন্দকারের সংগীত পরিবেশনা। এছাড়া সম্প্রতি জাপানে জনপ্রিয়তা অর্জনকারী শিক্ষার্থী তারেক হাসান এবং ওয়াজিহা নেহারের নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোবে সিটি গভর্নমেন্টের সিনিয়র কর্মকর্তা ইউ নাগাতা। তিনি তার বক্তব্যে কোবে বাংলাদেশ কমিউনিটির উদ্যোগের প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও এমন আয়োজনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এছাড়া কিয়োটো, ওসাকা, নারা এবং কানসাই অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত বাংলাদেশিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সমাপনী বক্তব্য দেন কোবে শহরের প্রবীণ কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব সোহেল চৌধুরী।
আয়োজকরা জানান, কোবে বাংলাদেশ কমিউনিটির একদল তরুণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও নিরলস পরিশ্রমে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আয়োজনে আশিক, সৌরভ, হাসান, মিনহাজ, প্রতিম, মিরাজ, রিয়েল, ইকবাল, হৃদয়, শরিফুল, নোমান ও গাফ্ফারসহ অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
কমিউনিটির পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।