নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার কামরুল হাসান টাঙ্গাইলে কর্মরত থাকলেও গত দুই বছর ধরে রাণীনগর উপজেলার পদ ধরে রেখে এখান থেকেই বেতন-ভাতা উত্তোলন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কামরুল হাসান ২০১৫ সালের ১৫ মে রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ ১০ বছর কর্মরত থেকে বিগত সরকারের আস্থাভাজন প্রতাপশালী কর্মকর্তা হয়ে ওঠেন।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিবর্তন এলে রহস্যজনক কারণে কামরুল হাসানকে আর দেখা যায় না । খোঁজ নিয়ে জানা গেছে
২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এক অফিস আদেশে তাকে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে সংযুক্ত করা হয়। একই বছরের ২৭ অক্টোবর আরেক আদেশে তাকে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা অফিসে সংযুক্ত করা হয়। এরপর থেকে তিনি টাঙ্গাইলে দায়িত্ব পালন করলেও রাণীনগরের পদটি এখনো তার দখলে রেখেছে
এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে পদটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রমে তদারকি, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, মনিটরিংসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে পদটি শূন্য ঘোষণা না হওয়ায় নতুন কাউকে পদায়ন বা নিয়োগ দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।
রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম-ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ফারুক আহমেদ মোল্লা জানান, বর্তমানে অফিসে কোনো পূর্ণকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নেই। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন এবং সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা পদও শূন্য। একাডেমিক সুপারভাইজার পদটি কাগজে-কলমে থাকলেও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কেউ নেই। এতে দাপ্তরিক কাজে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কামরুল হাসান টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা অফিসে সংযুক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। বেতন উত্তোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ীই বেতন তুলছি। তবে রাণীনগরে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলতে হবে বলে মন্তব্য করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাকিবুল হাসান শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে একজন একাডেমিক সুপারভাইজার পদায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন।
চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউএনও বলেন, উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে দ্রুত একজন একাডেমিক সুপারভাইজার নিয়োগ অত্যন্ত জরুরি।