• শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন
Headline
কুলিয়ারচরে শিক্ষার্থীকে ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগ, সালিশে ‘ই’জ্জ’তের মূল্য’ ৫০ হাজার টাকা ঘেরে নিজেই বিষ প্রয়োগ করে কর্মচারীকে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ ঠাকুরগাঁওয়ে মা’দক’বিরোধী অভিযান, তিনজনের কারা’দ’ণ্ড কলমাকান্দায় কবরস্থান নিয়ে সং’ঘ’র্ষ, আ’হ’ত অর্ধশতাধিক ডিসি কাউসার আজিজের যোগ্য নেতৃত্বে বদলে যাচ্ছে সাতক্ষীরা কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ৭ কেজি গাঁজাসহ দুই রো/হি/ঙ্গা আটক, কা’রাদ’ণ্ড আরও দুজনের বিএনপির উদ্যোগে ৪ ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্তরা পেলেন ২০ কেজি খাদ্যশস্য ১৫ আগস্ট ঘিরে গোপালগঞ্জে ব্যাপক নিরাপত্তা, পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন পানছড়িতে নাগরিক ও ছাত্র পরিষদের আংশিক কমিটি ঘোষণা বরিশাল থেকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল টুঙ্গিপাড়ায় উদ্ধার

কুলিয়ারচরে শিক্ষার্থীকে ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগ, সালিশে ‘ই’জ্জ’তের মূল্য’ ৫০ হাজার টাকা

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশকাল : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১১) জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মো. জজ মিয়া (৬৮) নামের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১১ টার দিকে উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের আলীনগর পূর্ব পাড়া গ্রামে নদীর পাড় সংলগ্ন জঙ্গল এলাকায় এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। শিশুটি স্থানীয় আলীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

এ ঘটনায় শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভুক্তভোগী শিশুর অসহায় কৃষক পিতা (৫৭) বাদী হয়ে কুলিয়ারচর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযুক্ত জজ মিয়া আলীনগর গ্রামের মৃত আ. গফুরের ছেলে।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ভুক্তভোগী শিশু (১১) নিজ বাড়ির পশ্চিমে নদীর পাড় ফারুক মিয়ার জমিতে লাকড়ি শুকাতে যায়। এ সময় পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা জজ মিয়া শিশুটির মুখে গামছা পেঁচিয়ে টেনে-হিঁচড়ে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির পরনের কাপড় খুলে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

শিশুটির ডাক-চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে অভিযুক্ত জজ মিয়াকে হাতেনাতে আটক করে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্যব্যক্তিবর্গ বিষয়টি শালিস-বৈঠকের মাধ্যমে আপোস-মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্তকে সেখান থেকে নিয়ে যায়।

এর পর ওইদিন শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে শিশুটির বাড়িতে একটি সালিশ বসিয়ে শিশুটির ইজ্জতের মূল্য ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে তাঁর পরিবারের নিকট ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে স্থানীয় মাতব্বররা। টাকা নিয়ে আপোষ মিমাংসা করতে রাজি না হয়ে ১৪ আগস্ট শুক্রবার সকাল ৯ টার দিকে ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে সাথে নিয়ে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন শিশুটির পিতা। এসময় তাদের সাথে ছিলেন শিশুর চাচা মো. নজরুল ইসলামসহ দুই নারী।

শিশুটির পিতা জানান, অভিযুক্ত জজ মিয়া পূর্বেও এলাকায় এ ধরনের জঘন্য অপকর্ম ঘটিয়েছে। ইতিপূর্বে তার বড় ভাইয়ের ছোট মেয়ের সাথেও সে একই ধরনের অপরাধ করেছিল। সে সময় স্থানীয় মাতব্বরদের জানানো হলেও বিচারের বিহিত করা হয়নি, যার সুযোগ নিয়ে সে পুনরায় এই বর্বর ঘটনা ঘটিয়েছে।
তিনি আরও জানান, এলাকার মাতব্বররা বিচার করার কথা বলে সময় ক্ষেপণ করে ব্যর্থ হওয়ায় এবং বিবাদীকে মুক্ত করে নিয়ে যাওয়ায় থানায় এসে অভিযোগ দিতে বাধ্য হয়েছি। অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে একটি মহল অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অপর দিকে ঘটনার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষীরাও রহস্যজনক কারনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে এসে স্বাক্ষী দিতে ভয় পাচ্ছে। বর্তমানে তারা বিচারহীনতায় ভুগছেন দাবী করে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

অপর দিকে ভিকটিমের চাচা মো. নজরুল ইসলাম (৩৮) বলেন, থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করার পর থেকে অভিযুক্ত জজ মিয়া লোকজন দিয়ে তাদের বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধামকিসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। বিবাদীরা খুবই প্রভাবশালী লোক। তাদের ভয়ে আতংকে দিন পার করছে বলেও জানান তিনি। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।

এব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত মো. জজ মিয়ার সাথে যোগাযোগ করার চেস্টা করেও তাকে পাওয়া না যাওয়ায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯ টার দিকে স্থানীয় ফরিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মোবারক হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ঘটনার খবর পেয়ে ভিকটিমের খোঁজ খবর নিতে তাদের বাড়িতে গিয়েছি। অপরাধী যেই হোক না কেন তার কোন ছাড় নাই। তদন্ত সাপেক্ষে ধর্ষণের ঘটনা সত্যি হলে এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আর অভিযুক্ত ব্যক্তি নিরপরাধ হলে তাকে সন্মানের সহিত মামলা থেকে অব্যাহতি চাই।

শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯ টার দিকে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শিশুর পিতা বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পেয়ে থানার ওসি (তদন্ত) মো. মোবারক হোসেন ও এসআই অর্পণ বিশ্বাস সহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযুক্তকে গ্রেফতারে চেষ্টা করেছি।
মামলা রুজু হওয়ার পক্রিয়ধীন। যেহেতু ধর্ষণের অভিযোগ দিয়েছেন ভিকটিমের ডাক্তারী পরীক্ষা শেষে বলা যাবে ধর্ষণ নাকি ধর্ষণের চেষ্টা। আগামীকাল সকালে ভিকটিমকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে পাঠানো হবে এবং ভিকটিমের জবানবন্দি গ্রহনের জন্য বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হবে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category