বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নের চরগুপ্তদিয়া গ্রামের শাহানবাগান বাড়ি এলাকায় ১৬ বিঘা মাছের ঘেরের মালিক মোঃ শামীম হাসান শিকদারের বিরুদ্ধে তাঁর ঘেরের কর্মচারীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানি এবং সরকারি খাল ও জমি দখলের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
ঘেরের কর্মচারী রফিকের অভিযোগ, শামীম হাসান শিকদার নিজেই তাঁর মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে উল্টো তাঁকে আসামি করে প্রায় ৮ লাখ টাকার মামলা দায়ের করেন। ২০১৮ সালে দায়ের করা ওই মামলায় দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ বছর তাঁকে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন রফিক।
রফিক বলেন,শামীম স্যার নিজেই তাঁর ঘেরে বিষ দিয়ে আমার নামে ৮ লাখ টাকার মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। এলাকার সবাই জানে আমি কেমন ছেলে। এরপরও আমাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। মামলা হওয়ার পর চার-পাঁচ বছর আমি হয়রানির শিকার হয়েছি। ঠিকমতো কাজ করতে পারিনি। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। আমরা গরিব মানুষ, তাঁর সঙ্গে পেরে উঠিনি। আমি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষীর বিচার দাবি করছি।
রফিকের আরও অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে শামীম হাসান শিকদার স্থানীয় বিভিন্ন মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। পাশাপাশি সরকারি খাল ও জমি দখল করে বাড়ি ও নিজস্ব প্রকল্প গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এলাকার প্রায় ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা অভিযোগ করে বলেন, আগের সরকারের আমলে শামীম হাসান এলাকায় বিভিন্ন মানুষকে হয়রানি করেছেন। অনেককে মামলা দিয়ে জেল খাটিয়েছেন। আমার ভাইপোকেও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। আমরা তাঁর ভয়ে কথা বলতে পারতাম না। এলাকার মানুষ অনেকটা জিম্মি হয়ে ছিল। আমরা এসব ঘটনার বিচার চাই।
এদিকে শামীম হাসান শিকদারের কাছ থেকে ওই ১৬ বিঘা জমি লিজ নেওয়া সাগর মোল্লা বলেন, আমি শামীম শিকদারের কাছ থেকে তিন বছরের জন্য ১৬ বিঘা জমি সাড়ে ১৬ লাখ টাকায় লিজ নিয়েছি। ইতোমধ্যে দুই বছর চলে গেছে, আর এক বছর বাকি আছে। যদি লিজ নেওয়া জায়গার মধ্যে সরকারি খাল থাকে, তাহলে বিষয়টি শামীম শিকদারকে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার সময় দেখতে হবে। তিন বছরের মেয়াদ শেষ হলে আমি প্রজেক্ট ছেড়ে দেব।
ভুক্তভোগীদের দাবি, শামীম হাসান শিকদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা হোক। বিশেষ করে ঘেরে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় রফিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি পুনঃতদন্ত করে মামলা দায়েরের পেছনে প্রকৃত ঘটনা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চরগুপ্তদিয়া এলাকায় শামীম হাসান শিকদারের বিরুদ্ধে আরও কয়েকজন হয়রানি ও জমি দখলের অভিযোগ করেছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলা, জমির রেকর্ড ও অন্যান্য নথিপত্র যাচাই করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ শামীম হাসান শিকদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।