গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুরক্ষায় সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ‘গণতন্ত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় পাঁচবিবি উপজেলার বন্ধন সভাকক্ষে Defending Human Rights through Network Strengthening (DHRNS) Project-এর আওতায় মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)-এর সহযোগিতায় এবং বন্ধনের আয়োজনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সাংবাদিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। জনগণের কাছে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পৌঁছে দেওয়া, অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরা, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রকাশ করা এবং রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে সুসংহত করতে স্বাধীন, নিরপেক্ষ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সংলাপের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বন্ধনের কো-অর্ডিনেটর মো. শফিকুল আলম চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পাঁচবিবি উপজেলা ফ্যাসিলিটেটর মো. বিপ্লব আলী।
সংলাপে বক্তব্য রাখেন জেলা হিউম্যান রাইটস মনিটরিং অফিসার ড. সাজ্জাদুল বারী এবং এমএসএফের হিউম্যান রাইটস মনিটরিং অফিসার সাইদ মাহফুজ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)-এর প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে কার্যকর ও শক্তিশালী করতে স্বাধীন গণমাধ্যমের বিকল্প নেই। সাংবাদিকদের সত্যনিষ্ঠা, পেশাগত নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে বর্তমানে সংবাদ পরিবেশনের সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। এ কারণে সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং মানবিক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া সাংবাদিকদের অন্যতম দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বন্ধন নির্বাহী পরিষদের সভাপতি মো. তারিকুল আলম চৌধুরী। তিনি গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান।
সংলাপে স্থানীয় সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় গণতন্ত্রের বিকাশ, মানবাধিকার সুরক্ষা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে।