• শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৮ পূর্বাহ্ন
Headline
কুলিয়ারচরে শিক্ষার্থীকে ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগ, সালিশে ‘ই’জ্জ’তের মূল্য’ ৫০ হাজার টাকা ঘেরে নিজেই বিষ প্রয়োগ করে কর্মচারীকে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ ঠাকুরগাঁওয়ে মা’দক’বিরোধী অভিযান, তিনজনের কারা’দ’ণ্ড কলমাকান্দায় কবরস্থান নিয়ে সং’ঘ’র্ষ, আ’হ’ত অর্ধশতাধিক ডিসি কাউসার আজিজের যোগ্য নেতৃত্বে বদলে যাচ্ছে সাতক্ষীরা কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ৭ কেজি গাঁজাসহ দুই রো/হি/ঙ্গা আটক, কা’রাদ’ণ্ড আরও দুজনের বিএনপির উদ্যোগে ৪ ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্তরা পেলেন ২০ কেজি খাদ্যশস্য ১৫ আগস্ট ঘিরে গোপালগঞ্জে ব্যাপক নিরাপত্তা, পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন পানছড়িতে নাগরিক ও ছাত্র পরিষদের আংশিক কমিটি ঘোষণা বরিশাল থেকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল টুঙ্গিপাড়ায় উদ্ধার

অধ্যক্ষের পদ নিয়ে দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব, ১৬ বছর পর কলেজে এক ভাইয়ের প্রবেশ

শফিকুল ইসলাম, পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশকাল : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত কবি নজরুল ইসলাম বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে দীর্ঘ ১৬ বছর পর তালা ভেঙে প্রবেশ করেছেন সদ্য আদালতের রায় পাওয়ার দাবি করা অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান টুলু।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় কলেজের অফিস কক্ষের দুটি তালা ও একটি শ্রেণিকক্ষের তালা ভেঙে তিনি প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করেন।

জানা গেছে, কবি নজরুল ইসলাম বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজটি ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সমর্থিত জাতীয় সংসদের হুইপ সৈয়দ শহিদুল হক জামাল কলেজটির উদ্বোধন করেন। প্রতিষ্ঠার ছয় বছর পর ২০১০ সালে কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। এরপর কলেজের অধ্যক্ষের পদ নিয়ে দুই সহোদর বড় ভাই কামরুজ্জামান ও ছোট ভাই আসাদুজ্জামান টুলুর মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। উভয়েই অধ্যক্ষের দায়িত্ব দাবি করে মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের এ বিরোধ ও মামলা জটিলতার কারণে কলেজটির কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

আসাদুজ্জামান টুলুর দাবি, তিনি কলেজ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার বড় ভাই কামরুজ্জামান তখন গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন না থাকায় কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি মাস্টার্স পাসের সনদ দেখিয়ে অধ্যক্ষের পদ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন আসাদুজ্জামান। ওই সনদ জাল প্রমাণিত হওয়ায় তার ভাইকে জেল ও জরিমানা ভোগ করতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আসাদুজ্জামান আরো বলেন, দীর্ঘদিন মামলা পরিচালনার পর তিনি আদালতের রায় পেয়েছেন। এরপর এলাকাবাসী তাকে খবর দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে বলেন। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে কলেজে প্রবেশ করেন তিনি।

কলেজটির ভূমিদাতা পরিবারের সদস্য শরীফ মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, তার দাদা মরহুম আব্দুল হাকিম শরীফ কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান করেছিলেন। বর্তমানে সেখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলমান থাকলেও কলেজ প্রতিষ্ঠার পর রাজনৈতিক বিরোধ এবং দুই ভাইয়ের অধ্যক্ষ পদ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার কারণে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। একাধিকবার কলেজটি চালুর চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। ছোট ভাই আদালতের রায় পেয়েছেন এমন দাবি পাওয়ার পর কলেজটি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কলেজটির ইংরেজি শিক্ষক সুশোভন তালুকদার বলেন, তিনি ২০০৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময় ছোট ভাই আসাদুজ্জামান টুলু অধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন। তার ভাষ্য, বড় ভাই কামরুজ্জামানের মামলার বিপরীতে দুইবার আসাদুজ্জামানের পক্ষে আদালতের রায় হয়েছিল। তিনি প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালুর দাবি জানান।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকলেও এখান থেকে প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। চলতি বছরও ২৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। বিভিন্ন সমস্যার কারণে স্থানীয়রা কলেজটিতে তালা দিয়ে রেখেছিলেন। আদালতের রায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের শিল্প বিষয়ক সম্পাদক নুরুল আলম বিপ্লব বলেন, তৎকালীন বিএনপি সমর্থিত হুইপ সৈয়দ শহিদুল হক জামাল কলেজটির উদ্বোধন করায় পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার আমলে প্রতিষ্ঠানটি স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হতে পারেনি বলে তিনি মনে করেন। পাশাপাশি দুই ভাইয়ের অধ্যক্ষ পদ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার কারণে কলেজটি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। আদালতের রায়ের পর বৃহস্পতিবার পুনরায় কলেজ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কলেজের অবকাঠামো, কম্পিউটার ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, কলেজটি চালুর জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও দুই ভাইয়ের মামলা জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। দুই ভাই-ই অধ্যক্ষের দাবি করে আসছিলেন। তবে আদালতের রায়ের বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category