• মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ন

নওগাঁয় ৪০ লাখ টাকার গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২

রাজেকুল ইসলাম, নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশকাল : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬

নওগাঁর নিয়ামতপুরে ট্রান্সফরমার চুরির একটি সাধারণ তদন্ত শেষ পর্যন্ত উন্মোচন করেছে সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসার ভয়ঙ্কর চিত্র। পুলিশের মধ্যরাতের বিশেষ অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৪০ লাখ টাকা মূল্যের ৯০ কেজি শুকনা গাঁজা। এ ঘটনায় দুইজন কথিত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, সীমান্তবর্তী জেলা থেকে গাঁজা এনে একটি দোতলা মাটির বাড়িকে গোপন গুদাম হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ করা হচ্ছিল।

সোমবার (৮ জুন) বিকেলে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার বলেন, গত ৬ জুন নিয়ামতপুর উপজেলার পাড়ইল ইউনিয়নে একটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয় নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমানকে। তদন্তের একপর্যায়ে রোববার রাতে সন্দেহভাজন হিসেবে হামেদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি নিজেকে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় ওসি মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে নিয়ামতপুর থানার একটি বিশেষ টিম রোববার দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিট থেকে সোমবার ভোর ৫টা পর্যন্ত উপজেলার ৬ নম্বর পাড়ইল ইউনিয়নের তুলার বাঐল গ্রামের একটি বসতবাড়িতে অভিযান চালায়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী ওই অভিযানে বিশেষভাবে মোড়কজাত অবস্থায় ৯০ কেজি শুকনা গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় দুই মাদক ব্যবসায়ীকে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার তুলার বাঐল গ্রামের মো. এজামুলের ছেলে মো. হামেদুল ইসলাম (৩৫) এবং একই গ্রামের মৃত আজমুদ্দিনের ছেলে মো. রশিদ (৪৪)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে একটি সুসংগঠিত মাদক চক্রের তথ্য। তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকা দিয়ে কখনো ট্রাকে, আবার কখনো হাইস মাইক্রোবাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা এনে হামেদুলের দোতলা মাটির বাড়িতে মজুত রাখতেন। পরে সেই মাদক নওগাঁসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সরবরাহ করা হতো।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা আরও স্বীকার করেছেন, এর আগেও একাধিকবার সীমান্ত ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে ওই বাড়িতে সংরক্ষণ ও বিক্রি করেছেন। মাদক ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত অর্থ ছাড়াও বাড়ির মালিক হিসেবে হামেদুল প্রতি ৩০ কেজি গাঁজা মজুতের বিপরীতে অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা করে গ্রহণ করতেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়ামতপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 

নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল বলেন,মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার রোধে আমাদের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। মাদক কারবারে জড়িত কাউকেই আইনের আওতার বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category