পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটে যাকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই ভবানীপুরের সাবেক রিটার্নিং কর্মকর্তা সুরজিৎ রায় এবার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী–র দফতরে নিয়োগ পেয়েছেন।
রবিবার (১০মে) রাজ্য কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে সুরজিৎসহ মোট ৯ জন আমলাকে সিএমওতে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। বিধানসভা ভোটের সময় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ ছিল, তিনি নন্দীগ্রামে শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ এবং ভবানীপুরে তৎকালীন তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়–এর সভার অনুমতি দিতেও আপত্তি করেছিলেন।
সে সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে সুরজিৎ রায়কে সরানোর দাবি জানিয়েছিলেন। নবান্ন কমিশনের কাছে তিনজন কর্মকর্তার নাম পাঠালেও শেষ পর্যন্ত সুরজিৎকেই বহাল রাখা হয়। এবার সেই কর্মকর্তাকেই নিজের দফতরে টেনে নিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদলের আভাস মিলছিল আগেই। রবিবারের বিজ্ঞপ্তিতে একসঙ্গে ১০ জন আমলার বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুই আইএএস কর্মকর্তা— ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দফতরের যুগ্ম সচিব পি প্রমথ এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক নবনীত মিত্তলও রয়েছেন। এছাড়া ডায়মন্ড হারবারের এসডিও ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের উপসচিবসহ সাতজনকে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে সিনিয়র উপসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহকারী সচিব পবিত্র চক্রবর্তীকে বদলি করে কোচবিহারে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই শুভেন্দু অধিকারী তার ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে শান্তনু বালা এবং উপদেষ্টা হিসেবে সুব্রত গুপ্তকে নিয়োগ দেন। এরপরই নবান্ন থেকে ৬২ জন আমলাকে তলব করা হয়, যারা আগের তৃণমূল সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত বা বিশেষ সচিব হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজার ১১৪ ভোটে হেরেছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা